
সাধারণত জানুয়ারি হচ্ছে বছরের সবচেয়ে শীতলতম মাস। বছরের এ সময়টাতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। দিনে রোদ ও শীতের মিশেলে মাঝারি শীতের অনুভূতি থাকলেও এবার রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসায় শীতের অনুভূতি কিছুটা বেশি।
দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে শীতের অনুভূতি থাকবে আজ রোববারও। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। অর্থাৎ শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে দিনে রোদ থাকায় ওই সময়ে শীত কিছুটা কমে আসবে। রোদের দেখা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় গতকাল শনিবার দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যায়। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় শীতের কষ্ট কিছুটা কমেছে। কুয়াশাও কিছুটা কমে আসায় শীতের অনুভূতিও কমেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকায় এ ধরনের আবহাওয়া থাকছে। দেশের যে চার জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা গতকালও অব্যাহত ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানান, দুই সপ্তাহ ধরে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় দিন ও রাতে যে সমান শীতের অনুভূতি ছিল, তা কিছুটা অস্বাভাবিক। শীতকালে দিনে রোদ থাকে, রাতে শীত নামে। এটাই স্বাভাবিক। আগামী কয়েকদিন এ ধরনের শীত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা কমে গিয়ে শৈত্যপ্রবাহের এলাকা বাড়তে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে দেশের আকাশ আবারও মেঘলা হতে পারে। দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে যা দুই থেকে তিন দিন থাকতে পারে। তারপর আবারও শীত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর আবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে তা আরও বিস্তৃত হতে পারে। অর্থাৎ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকা রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর ও মৌলভীবাজারের আশপাশেও শীতল ওই আবহাওয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চল এবং সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকায় তীব্র শীতের কারণে জীবনযাত্রা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। রাত থেকে নামা ঘন কুয়াশার কারণে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক এবং নদীপথে সমস্যা হয়েছে সবচেয়ে বেশি।
এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় হাসপাতাল গুলোতে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি বলে হাসপাতার সূত্রে জানা গেছে।
শীতের তীব্রতায় একটুখানি উঞ্ষতা পেতে সকাল-স্ন্ধ্যায় খড়কুটা জ্বালিয়ে অনেককেই আগুন পোহাতে দেখা যায় । রাজমিস্ত্রীর যোগালি হিসেবে কাজ করা শ্রমিক খালেক আশংকা প্রকাশ করে বলেন, শৈত্য প্রবাহ এভাবে আরো কয়েকদিন থাকলে তার মত সাধারণ কর্মজীবি মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, আগামীকাল বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।