শিক্ষা

শিক্ষা

ববিতে সংস্কৃতি চর্চার জন্য নেই কোন অডিটোরিয়াম

প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন অডিটোরিয়াম। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি হয় সহশিক্ষা কার্যক্রম। যেখানে থাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক শিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংগঠনগুলি টিএসসি কেন্দ্রীক হওয়ার পাশাপাশি একটি অডিটোরিয়ামেরও প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন কোন বিখ্যাত ব্যক্তিরা আসেন, তখন তারা জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স রুম অর্থাৎ একটি ক্লাস রুমের মতো হলরুমে বক্তব্য দেন। অনেক শিক্ষার্থীরা চাইলেও সেসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারে না। কারণ সেখানে পর্যাপ্ত আসন সংখ্যা নেই, আসন সংখ্যা সীমিত। একটি অডিটোরিয়াম তৈরি হলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাদের সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় বিখ্যাত ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণামূলক কথা শুনতে পারবে। জেলা পর্যায়ের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে অনেক বড় অডিটোরিয়াম আছে। নতুন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় অডিটোরিয়াম আছে। কিন্তু একটি বিভাগীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যেটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে এক যুগেও নেই কোন অডিটোরিয়াম। এটি শিক্ষার্থীদের বড় এক ক্ষোভের কারণ।

যদিও বর্তমানে ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়া রুটিন দায়িত্ব উপাচার্য হয়েছেন, তার আশা রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করার এবং সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু একটি অডিটোরিয়াম তৈরি করার। তিনি যদি স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে ভবিষ্যতে আসেন তাহলে হয়তো তিনি তার আশা ও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

এ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন তৈরি হয় তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টার প্লান থাকে এবং এই মাস্টার প্লান অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টিকে অনুমোদিত করা হয়েছে। এ সমস্ত বাজেটগুলো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তিনটার সমন্বয়ে এসে থাকে। অর্থাৎ এককথায় সরকারের পক্ষ থেকেই বাজেট এসে থাকে। আমরা প্রতিবছরই বলে থাকি আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্লাস রুম সংকট, আমাদের অডিটোরিয়াম নেই। এমন নানা সমস্যার কথা আমরা বলে থাকি। কিন্তু আসলে সরকার তার নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা থেকে বাজেট প্রদান করে থাকে। আর সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজগুলো করে থাকি।

নতুন উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার কোন নতুন পরিকল্পনা বা উদ্যোগ আছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা যে অনুষ্ঠান করছি আমাদের নিজস্ব যে বাজেট থাকে, আমাদের নিজস্ব অডিটোরিয়াম না থাকায় স্টেজ করে এবং বিভিন্ন রকমের প্যান্ডেল তৈরি করে করতে গিয়ে আমাদের অনেক খরচ বেড়ে যায়। আর তাছাড়া যখন অডিটোরিয়াম থাকে না, তখন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানাবিধ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে বিভিন্ন সভা সমিতি করতে গিয়ে নানাবিধ সমস্যা হয়।’

উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) জানান, তিনি ঊর্ধ্বতন মহোদয়ের কাছে জানিয়েছেন এবং তিনি চেষ্টা করবেন যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অডিটোরিয়াম তৈরি হয়।

বিষয়:
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত