
বেশ কিছুদিন ধরেই থেকে থেকে চলছে তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ। বাইরে প্রচণ্ড কড়া রোদ। এমনকি ঘরে থেকেও স্বস্তি মিলছে না। ঘরেও যেনো দাবদাহ। অনেকেই ছুটছেন এসি কিনতে। কিন্তু সবার তো আর এসি কেনার সামর্থ্য নেই। তাই বেশিবভাগ মানুষই গরমে কষ্টে আছেন। আর এসির অধিক ব্যবহারেও তো প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেড়ে চলেছে গরম।
তাই এসি ছাড়াই কিভাবে ঘরকে ঠান্ডা রাখা যায়, সেই দিকে নজর অনেকেরই। আছে সেই কৌশলও। ঘরের তাপমাত্রা কম রাখতে ঘরে রাখা যায় কিছু গাছ। বাড়িতে গাছ লাগিয়েই এসি ছাড়া সহনীয় তাপমাত্রায় রাখা যায় নিজেদের ঘরকে।
ঘর শীতল করে এমন কিছু গাছের কথা জেনে নেয়া যাক–
ইংলিশ আইভি : গবেষকদের মতে, এই গাছ মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘরের বাতাসের প্রায় ৬০ শতাংশ টক্সিন এবং ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত দুর্গন্ধ শুষে নিতে পারে। ঘরের শোভা বাড়াতেও কাজ করে এটি। তাই ঘর ঠান্ডা ও দূষণমুক্ত রাখতে ঘরে রাখতে পারেন এই গাছ।
স্নেক প্ল্যান্ট : অ্যালো ভেরার মতো এই গাছের পাতাও জলীয় উপাদানে সমৃদ্ধ। তাই জানলার কাছে রেখে দিলে তা উত্তাপ শোষণ করে নেবে, ঘরের হাওয়াকে করে তুলবে শীতল। এটিতেও অতিরিক্ত জলসেচনের দরকার হয়।
এরিকা পাম : বাড়িতে জায়গার অভাব না থাকলে বসার ঘরে রাখতেই পারেন এরিকা পাম। এটি তাল গাছের তুতো ভাই। এরিকা পাম এক দিকে ঘর ঠান্ডা রাখে, আবার দেখতেও ভাল লাগে। শুধু বাড়ি নয়, এই গাছটি হোটেল, অফিস এবং অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে সাজাতেও ব্যবহৃত হয় এই গাছ।
ঘৃতকুমারী : অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অতি পরিচিত একটি উদ্ভিদ। বাড়ির ভিতরের তাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অ্যালভেরার গুণাগুণ বহু। মূলত বাংলার বুকে এই গাছ ঘৃতকুমারী নামে পরিচিত। এই গাছের পাতায় রয়েছে বহু ধরনের প্রতিকার।
রবার প্লান্ট : এই গাছের পাতা এমনিতেই বড় হয়। পাশাপাশি যদি সব চেয়ে বড় পাতার শ্রেণি দেখে গাছটি কেনা হয়, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তা ঘর ঠান্ডা রাখবে। এতে মাঝে মাঝেই একটু পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
উইপিং ফিগ : এই গাছগুলি বাড়ির ভিতরেই বেশ ভাল হয়। এর ছোট ছোট পাতা হাওয়ায় দোলা লাগলে বেশ ভাল লাগে দেখতে। আবার এই গাছ বাড়ির তাপমাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। তবে গাছটি এমন জায়গায় রাখবেন যেখানে সূর্যের তাপ সরাসরি এসে পড়ে।
চাইনিজ এভারগ্রিন : এই গাছের পাতাগুলি ঘরের ভিতরে ভিন্ন ইকোসিস্টেম তৈরি করতে সাহায্য করে। এর বাহারি পাতা যেমন দেখতে ভাল লাগে, তেমনই তাপমাত্রা কমাতেও সাহায্য করে।
পামস : এর সরু সরু পাতা মিলে ঘরের মধ্যেই একটা বুনো পরিবেশের সৃষ্টি করে। এটা মানসিকভাবে গরমের অনুভব কমিয়ে দেয় বলেই মনে করেন গবেষকরা।
এসব গাছ যে কেবল ঘরকে ঠান্ডা রাখতে ভূমিকা রাখবে তা কিন্তু না। বরং ঘরের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলবে বহুগুন।