জাতীয়, লিড নিউজ

জাতীয়, লিড নিউজ

ঘূর্ণিঝড় রেমাল

পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেত!

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরেও ৯ নম্বর মহা বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রোববার (২৬ মে) সকালে ঘূর্ণিঝড় রিমাল নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এক বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রিমাল রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের কাছের দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

এর আগে শনিবার (২৫ মে) রাতে বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। এ বিষয়ে রাতেই আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক স্বাক্ষরিত ৭ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলোর নিচু এলাকা স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট, এমনকি, জোয়ারের প্রভাবে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে ৭ ফুটেরও বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

তার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান জানান, অতিপ্রবল হিসেবে দেশের উপকূল অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়। এ অবস্থায় উপকূলের ১৩টিসহ নিকটবর্তি ১৮ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রমের সময় বাতাসের গতিবেগ ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এটির গতিবেগ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার রুটের সব ধরনের বিমানের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে আজ সকালে (২৬শে মে) বরিশাল রুটের একমাত্র ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম রোববার (২৬ মে) সকালে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া গতকাল রাত থেকেই অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের এক নির্দেশনায় সারাদেশের নৌপথে চলাচলরত সব ধরনের লঞ্চ ও নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বন্দরের নিরাপত্তা এবং জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরের সকল প্রকার মাদারভেসেলকে বহিঃনোঙ্গরে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল ও খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে।

এদিকে সরকারি এক নির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ছুটি বাতিল করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত