অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থ ও বাণিজ্য

ভালো কোয়ালিটি এবং সার্ভিসের বিকল্প নেই : সিনথিয়া রূম্পা

স্কুল শিক্ষকতা দিয়ে পেশাজীবন শুরু করেন সিনথিয়া রূম্পা। ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সাথে ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে উপহার আদান-প্রদানের আনন্দ থেকে তার মাথায় উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা আসে। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। ছোটদের পছন্দের উপহার এবং খেলনা পণ্য নিয়ে শুরু করলেন Token of Love নামে অনলাইন ব্যবসা। পরে Desire Dairy of Sinthia নামে আরও একটি ব্যবসাও করছেন।

রোজকার খবরের বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা জিতুর কাছে নিজের উদ্যোক্তা জীবন ও ভাবনা জানিয়েছেন সিনথিয়া। উদ্যোক্তাদের জীবন ও ভাবনা নিয়ে শিল্পপুরাণ ও আরশিনগরের সৌজন্যে রোজকার খবরের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ প্রকাশিত হল এই বিশেষ প্রতিবেদন।

ঢাকার পুরান ঢাকা লালবাগে জন্মগ্রহণ করা সিনথিয়া রূম্পা জানান, তার শিক্ষা জীবনের শুরু আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। এরপর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে গৃহিণী হলেও দুটি অনলাইন ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি—‘Token of Love’ এবং ‘Desire Dairy of Sinthia’। ২০২১ সালে ‘Token of Love’-এর মাধ্যমে তিনি উদ্যোক্তা জীবনের যাত্রা শুরু করেন।

সিনথিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার, এবং সেই স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি জানান, “পরিবারের সহযোগিতায় আমি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর স্কুল শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভ করি। ছোটদের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা ছিল, তাই প্রথমে ‘লিটল বার্ডস্ কিন্ডার গার্টেন’ স্কুলে যোগদান করি।” শিক্ষকতার পাশাপাশি, সিনথিয়া বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।

তার উদ্যোক্তা জীবনের সূত্রপাত ঘটে ছোটদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। স্কুলে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই তার জন্য উপহার নিয়ে আসতো এবং তিনিও তাদের জন্য উপহার নিয়ে যেতেন। সিনথিয়া বলেন, “ছোটদের মধ্যে সেগুলোর আনন্দ দেখে আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম কিছু নতুন করব। আর তখনই ‘Token of Love’ শুরু করি।”

এটি ছিল তার প্রথম উদ্যোগ, যা তিনি একেবারে কম পুঁজি দিয়ে শুরু করেন। মাত্র ১০০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন সিনথিয়া। প্রথমে কিছু হাতের তৈরি কার্ড, সফট টয় এবং ইমোজি পিলো সংগ্রহ করেন। “আমি পণ্যগুলোর মধ্যে পিলো, দেয়াল ঘড়ি, টেডিবিয়ার, সফট টয়, হাতের তৈরি কিছু কার্ডসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রী রাখতাম। সব কিছুতেই ছিল এক অনন্য ভালোবাসা,” বলেন তিনি।

এরপর সিনথিয়া তার দ্বিতীয় উদ্যোগ শুরু করেন, Desire Dairy of Sinthia। নতুন পেজে নারীদের বিভিন্ন পণ্য এবং শীতকালীন পোশাকের সংগ্রহ আনেন। পণ্য এবং সেবার মান নিয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন। “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি প্রোডাক্টের দাম রিজেনেবল রাখার, যাতে সাধারণ মানুষও তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারে,” বলেন সিনথিয়া।

শুরুতে সেল কম ছিল এবং অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন, তবে তিনি হতাশ হননি। “ফেইক কাস্টমাররা বিরক্ত করতো এবং লাভ থেকে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতো। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, ভালো কোয়ালিটি এবং সার্ভিসের বিকল্প নেই,” বলেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই তার সেল বেড়ে যায় এবং তিনি ব্যবসায় এগিয়ে যেতে সাহস পান।

সিনথিয়া তার পরিবারের এবং স্বামীর সহযোগিতা ও দোয়ায় তার উদ্যোগের উন্নতি দেখতে পাচ্ছেন। “আমার কাস্টমাররা সন্তুষ্ট এবং তারা আমার প্রোডাক্টস ও সার্ভিসে খুশি,” জানান তিনি।

তবে সিনথিয়ার পরবর্তী পরিকল্পনা অনেক বড়। “আমার লক্ষ্য, একদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে শোরুম খুলবো এবং হাজারো বেকার তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবো,” বলেন তিনি।

সিনথিয়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেন, “আমাদের জীবনে বাধা আসবেই। কিন্তু লক্ষ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে যত বাধাই আসুক, তা অতিক্রম করে যেতে হবে।”

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত