
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার মধ্যে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় আলাদাভাবে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো ষড়যন্ত্রই নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারবে না। এ সময় তিনি জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আজকের বৈঠকে আলোচনা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল সাড়ে চারটায় জামায়াতের সঙ্গে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এনসিপির সঙ্গে এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবেন অধ্যাপক ইউনূস।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব নিশ্চিত করেছেন, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে তাদের বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইভাবে বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকেও বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পেছনে শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের লাঠিপেটায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের আহত হওয়ার ঘটনা ভূমিকা রেখেছে। এ ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের সভায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এদিকে, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচালের চেষ্টা করছে। তবে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও ঐকমত্য কমিশন অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের বৈঠকে এসব ইস্যু নিয়েও আলাপ হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।