
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এ সময় তার বর্ণনায় সত্য উদ্ঘাটিত হলে জীবনের বাকিটা সময় কিছুটা হলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার এই সত্য ও পূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে যদি সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং আল্লাহ আমাকে হায়াত দেন, তবে জীবনের বাকিটা সময় অন্তত কিছুটা হলেও অপরাধবোধ থেকে মুক্ত থাকতে পারব।’
তিনি স্বীকার করেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নির্দেশেই এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। একই সঙ্গে তিনি গণহত্যার শিকার পরিবার, আহত ব্যক্তিবর্গ, দেশবাসী এবং ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান।
মামুন জানান, তিনি সাড়ে ৩৬ বছর পুলিশে চাকরি করেছেন। চাকরি জীবনে মানবিকতা ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন দাবি করে বলেন, চাকরির শেষ পর্যায়ে তার মেয়াদকালে ঘটে যাওয়া এই গণহত্যার দায় তিনি নিচ্ছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে চলমান এ মামলায় আজ ছিল ১১তম দিনের শুনানি। মামুন ছিলেন ৩৬তম সাক্ষী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন মামুন, যা আদালত মঞ্জুর করে।
এ মামলার বাইরে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর একটি আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগে, অপরটি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সরকার, দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে হত্যাযজ্ঞ চালায়, সেটিকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার করছে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।