দেশ, লিড নিউজ

দেশ, লিড নিউজ

উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত ১

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহত শ্রমিকের নাম হাবিবুর রহমান। তিনি ইকু ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি নিটিং কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার থেকে এভারগ্রিন কোম্পানির শ্রমিকরা ২৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল জেনারেল ম্যানেজারের পদত্যাগ, পুরাতন শ্রমিকদের ছাঁটাই বন্ধ করে পূর্বের লে অফ সিস্টেম চালু করা, নামাজের সময় নিশ্চিত করা, স্যালারি কার্ড বাতিল এবং স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে লে অফ সুবিধা দেওয়া।

সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় গতকাল রাতে মাইকিং করে এভারগ্রিন কোম্পানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার পর। অথচ মাসের প্রথম দিনে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি, দুই মাসের বেতনও বকেয়া রয়েছে বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা ইপিজেড গেটে এসে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান এবং পরে সড়কে অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে তাদের সরে যেতে বলে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিচার্জ ও গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক সাদিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অফিস বন্ধ অথচ তাদের নিজস্ব লোকজন ভেতরে প্রবেশ করছে, আবার বেরও হচ্ছে। শ্রমিকদের সমস্যা হলে আমরা কোথায় বিচার চাইবো? বেপজায় অভিযোগ দিলে সমাধান হয় না, উল্টো চাকরি চলে যায়।’

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তানজিরুল ইসলাম ফারহান সাংবাদিকদের জানান, ‘নিহত হাবিবকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তার বুকে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়।’

এদিকে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম আর সাঈদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত