
নেপালে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সাংসদ পদত্যাগ করলেও আপাতত বর্তমান মন্ত্রীসভার অধীনেই দেশ পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌদেল।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। খবর- বিবিসি
রাষ্ট্রপতির জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদের ধারা ৩ অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকেই কাজ চালানোর সরকারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ওলির প্রকাশ্যে কোনো উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন চলছে, ওলি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যদিও তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি নেপালেই আছেন এবং নিরাপত্তা সংস্থার সুরক্ষায় রয়েছেন। জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বালুওয়াতারের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে তাকে উদ্ধার করা হয়।
রাষ্ট্রপতি পৌদেল অজ্ঞাত স্থান থেকে আন্দোলনকারী ‘জেন জি’ প্রতিনিধিদের আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে নেপালি সেনাবাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত জানান, তিনি রাষ্ট্রপতি বা শীর্ষ নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে “অজ্ঞ”।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শুধু সাংবিধানিক বিধান নয়, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সমাজে গ্রহণযোগ্য এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশ্বাসযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, “আমাদের শুধু সংবিধানে অনুমোদিত বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি, এর সমাধান রীতি বহির্ভূতভাবেও হতে পারে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদত্যাগ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা— সব মিলিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।