লিড নিউজ, শিক্ষা

লিড নিউজ, শিক্ষা

জাকসু নির্বাচনে ২৪ ঘণ্টায়ও শেষ হয়নি ভোট গণনা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পরেও গণনা শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। তবে লাইনে থাকা শিক্ষার্থীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে গিয়ে কয়েকটি হলে দেরিতে ভোট শেষ হয়। সব ব্যালট বাক্স সিনেট ভবনে পৌঁছাতে রাত সাড়ে ৯টা বেজে যায়, আর রাত ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব একেএম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন, শুরুতে ওএমআর মেশিনে গণনার পরিকল্পনা থাকলেও প্রার্থীদের আবেদনে হাতে গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সময় বেশি লাগছে। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে অভিজ্ঞতার অভাবে ধীরগতিতে গণনা হয়েছে, তবে এখন গতি বেড়েছে। আশা করছি রাতে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।’

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, গণনা প্রক্রিয়ায় ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে নির্বাচনের আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হাবীবা বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমরা ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না কখন গণনা শেষ হবে।’

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, প্রতিটি হলে ভোট গণনায় প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে। জাকসুর ২৫টি পদের ভোট গণনা আরও সময়সাপেক্ষ হবে। তার মতে, দ্রুত ফল প্রকাশের জন্য ওএমআর পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।

এদিকে ভোটের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রীতিলতা হলের পোলিং কর্মকর্তা ও চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোক নেমে এসেছে। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন হলেও আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অদক্ষতা ও বিশৃঙ্খলা প্রকাশ পেয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনকে দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১১,৭৫৯ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদে লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ৯ জন, জিএস পদে ৮ জন এবং এজিএস পদে ১৬ জন (নারী ৬, পুরুষ ১০) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জাকসু নির্বাচনে পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে মোট আটটি প্যানেল অংশ নিয়েছে। তবে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের সংশপ্তক পর্ষদ, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’, ছাত্র ফ্রন্টের একাংশ এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত
    গত ৭ দিনের কোনো জনপ্রিয় খবর পাওয়া যায় নি।