
নেপালে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পৌডেল চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় এবং ‘জেন জি’ আন্দোলনকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।
রাষ্ট্রপতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সুরেশ চন্দ্র চালিসে জানিয়েছেন, সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ নেতা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
‘জেন জি’ আন্দোলনকারীরা প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। রাষ্ট্রপতির প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখারেল বলেন, পরবর্তী বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদ গঠন ও সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসবে। একইসঙ্গে জরুরি অবস্থা ও নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে।
৭৩ বছর বয়সী সুশীলা কারকি এর আগে নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আইনজীবী থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং পরে প্রধান বিচারপতি হওয়ার যাত্রায় তিনি নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং দৃঢ় সিদ্ধান্তের জন্য তিনি আলোচিত হন, তবে রাজনৈতিক বিতর্কে অভিশংসনের মুখেও পড়েছিলেন।
বিরাটনগরে জন্ম নেওয়া কারকি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনের পর তিনি সরাসরি বিচারক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে যোগ দেন। দুর্নীতির মামলায় কঠোর অবস্থানের জন্য তিনি সুনাম কুড়ান, একইসঙ্গে বিতর্কেও জড়ান।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সুশীলা কারকির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—চলমান সংকট নিরসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জনগণের আস্থা অর্জন। অনেকেই মনে করছেন, অপ্রত্যাশিত এই সময়ে তার নেতৃত্ব নেপালের জন্য আশার আলো হতে পারে।