লিড নিউজ, শিল্প-সাহিত্য

লিড নিউজ, শিল্প-সাহিত্য

একুশে বইমেলা শুরু ১৫ ডিসেম্বর, কে কী বলছেন?

অমর একুশে গ্রন্থমেলা— বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন, সৃজনশীল প্রকাশনার সবচেয়ে বড় আসর। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া এই মেলা কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়, বরং বাঙালির ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির স্মারক এক উৎসব। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম ঘটছে। নির্বাচনের কারণে নিরাপত্তাজনিত জটিলতা এড়াতে বইমেলা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবারের আয়োজন।

মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমির এক সভায় এ বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। বাংলা একাডেমির সূত্র রোজকার খবরকে নিশ্চিত করেছে, প্রস্তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যাবে বৃহস্পতিবার, তারপরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।

এর আগে, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং আরও দুই সংগঠন লিখিতভাবে দাবি জানায়, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। ফলে বইমেলার মতো বিশাল জনসমাগমের নিরাপত্তা দেওয়া কঠিন হবে। প্রকাশকদের মতে, ফেব্রুয়ারির পর রাজনৈতিক আবহ, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা, এমনকি পাঠকের মনোযোগেরও ঘাটতি তৈরি হবে।

সমিতির পরিচালক আবুল বাশার ফিরোজ শেখ বলেন, ‘বইমেলা কেবল ব্যবসা নয়, এটি পাঠক ও লেখকের মেলবন্ধনের জায়গা। ফেব্রুয়ারির পরে সেই আবহ থাকবে না। তাই ডিসেম্বর বা জানুয়ারি আমাদের কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।’

১৯৮৩ সালে একবার আন্দোলনের কারণে বইমেলা বন্ধ হয়েছিল। এরপর শুধু করোনা মহামারির সময়ই মেলার তারিখ বদলে মার্চে গিয়েছিল। প্রকাশকদের দাবি, তখন ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি মেলার মান ও ঐতিহ্যও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সেই ধাক্কা থেকে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্প।

তাদের মতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বইমেলা তার বাণিজ্যিক সাফল্য ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হারাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক সৃজনশীল প্রকাশক কার্যত পঙ্গুত্বের দিকে চলে যাবেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির আগে আয়োজন না করলে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও মানুষের অংশগ্রহণ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আবার এপ্রিলের দিকে গেলে ঝড়-বৃষ্টির কারণে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী ডিসেম্বর-জানুয়ারিই যৌক্তিক সময়।’

তিনি জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ও ইতিমধ্যেই প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে আগামী সপ্তাহেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।

পাঠকদের কাছে ফেব্রুয়ারির বইমেলা শুধু বই কেনা-বেচার উৎসব নয়, বরং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক আবহের মিলনমেলা। তাই মেলার সময় পরিবর্তন তাদের অনুভূতির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত