
দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
প্রশ্ন হলো— ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে কীভাবে বুঝবেন, কী পরীক্ষা করাবেন, আর কীভাবে চিকিৎসা নিতে হবে?
ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ হলো জ্বর— যা ১০১ বা ১০২ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে ব্যথা, এবং কখনো কখনো চামড়ায় লালচে র্যাশ। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়ে কোনো জ্বরকেই অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পূর্ণ বিশ্রাম আর তরল জাতীয় খাবার। যেমন— ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস বা ওরস্যালাইন। তবে অতিরিক্ত পানি খাওয়ার দরকার নেই, বরং শরীরের প্রয়োজন মতো তরল খাবারই যথেষ্ট।
মনে রাখতে হবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা যাবে না। জ্বরে কেবল প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। তবে অ্যাসপিরিন বা অনুরূপ ওষুধ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এগুলো একেবারেই এড়িয়ে চলতে হবে।
ডেঙ্গু নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা। জ্বরের প্রথম দিকে করা যায় এনএস১ এন্টিজেন টেস্ট। পাঁচ দিনের পর করা হয় আইজিএম অ্যান্টিবডি টেস্ট। পাশাপাশি সিবিসি টেস্টের মাধ্যমে প্লাটিলেট কাউন্ট ও হেমাটোক্রিট পর্যবেক্ষণ করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে জরুরি।
ডেঙ্গু রোগী তিন ধরনের হতে পারে— ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’। বেশিরভাগ রোগী এ-ক্যাটাগরির, যাদের শুধু জ্বর থাকে এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা কিছুই খেতে পারে না। অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো।
আর সি-ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। রোগীদের ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা বা আইসিইউ পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।
ডেঙ্গুর মূল বাহক এডিস মশা সাধারণত সকালে এবং সন্ধ্যার আগে কামড়ায়। এ মশা স্বচ্ছ জমা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ঘরের ভেতর-বাইরে কোথাও তিন থেকে পাঁচ দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
অতএব প্রতিরোধই এখানে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখা, মশারি ব্যবহার করা এবং জমে থাকা পানি সরিয়ে ফেলা— ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষার প্রধান উপায়।
মনে রাখতে হবে— সচেতনতা আর দ্রুত চিকিৎসা ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে পারে হাজারো জীবন।