
এশিয়া কাপের সুপার ফোরে দুর্দান্ত জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ। দুবাইয়ের আলো-হাওয়ায় ক্রিকেটপ্রেমীরা উপভোগ করলেন রোমাঞ্চে ভরা এক ম্যাচ। শেষ বলের আগে হাসি ফুটেছে লাল-সবুজ শিবিরে। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ১৬৮ রানের লড়াকু পুঁজি গড়লেও সাইফ হাসান আর তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের পতাকা উড়াল লিটন কুমার দাসের দল।
বাংলাদেশের এই জয়ের নায়ক দুই ব্যাটার— সাইফ হাসান (৪৫ বলে ৬১) আর তাওহিদ হৃদয় (৩৭ বলে ৫৮)। শুরুতেই ইনফর্ম তানজিদ হাসান তামিমকে হারিয়ে কিছুটা ধাক্কা খেলেও, সাইফের দৃঢ়তা আর হৃদয়ের জ্বলে ওঠা ইনিংস মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়ায় দলের ব্যাটিংয়ে। বিশেষ করে কামিন্দু মেন্ডিসের এক ওভার থেকে হৃদয়ের ঝড়ো ১৬ রান ম্যাচের সমীকরণকে অনেকটাই সহজ করে দেয়।
তবে জয়ের পেছনে অবদান শুধু ব্যাটসম্যানদের নয়। বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন দুর্দান্ত। চার ওভারে মাত্র ২০ রান খরচায় নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ১৯তম ওভারে তার নিখুঁত স্পেলই আসলে শ্রীলঙ্কাকে বড় রান থেকে আটকে দিয়েছে। এই তিন উইকেটের সুবাদেই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবে নাম লিখিয়েছেন মুস্তাফিজ (১৪৯)।
স্পিন আক্রমণে আলো ছড়িয়েছেন শেখ মাহেদি হাসান। পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দিয়েছেন কুশাল মেন্ডিস আর কামিল মিশারাকে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে চাপে ফেলে দেন লঙ্কান ব্যাটারদের। এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, মাহেদির স্পেলেই মূলত ম্যাচটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসে।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে একাই লড়াই করেছেন দাসুন শানাকা। ৩৭ বলে অপরাজিত ৬৪ রানের তার ঝড়ো ইনিংস না হলে হয়তো রান থামতো আরও কমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ইনিংসও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি।
শেষ ওভারে খানিকটা উত্তেজনা তৈরি হলেও, নাসুম আহমেদের শান্ত ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। সেই সঙ্গে ফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল লাল-সবুজরা।
অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ম্যাচ শেষে বললেন, “আমরা জানতাম, লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারবো। সাইফের ব্যাটিংয়ে আমি বিস্মিত নই, তার ভেতরে ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য সবসময়ই ছিল। মুস্তাফিজ আর তাসকিনের শেষ দুই ওভারের বোলিং আসলেই ছিল ম্যাচ টার্নিং পয়েন্ট।”
এশিয়া কাপের এই জয় কেবল টুর্নামেন্টের সুপার ফোরে একটি সুন্দর শুরু নয়, বরং ভারতের বিপক্ষে আগামী ম্যাচের আগে দলের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসও বয়ে আনলো।
দুবাইয়ের গরমে ঝলসে ওঠা এই রাত তাই মনে রাখার মতো— যেখানে সাইফ-হৃদয়ের ব্যাট, মুস্তাফিজ-মাহেদির বল আর দলের অদম্য স্পিরিট মিলিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিখে দিলো নতুন রঙিন অধ্যায়।