
জাতীয় নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকার নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নাগরিকবান্ধব সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছি।’
ভাষণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এত আত্মত্যাগ, তা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জনগণকে বারবার সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করতে হয়েছে।’
তিনি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘এই বছর আমরা সেই অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী পালন করেছি— যেখানে তরুণসমাজ স্বৈরাচারকে পরাজিত করেছিল। এরপর জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমাকে ও আমার সহকর্মীদের।’
অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য তার সরকার ১১টি স্বাধীন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশন জনমত যাচাই করে সুপারিশ দিয়েছে শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
তিনি বলেন, ‘এসব সুপারিশ টেকসইভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করেছে।’
প্রধান উপদেষ্টা মনে করিয়ে দেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই ঘোষণা’-র মাধ্যমে সংস্কারের প্রতি সময়াবদ্ধ অঙ্গীকার করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর কোনো অনিশ্চয়তার সুযোগ থাকবে না।’
ড. ইউনূসের দেওয়া সম্পূর্ণ ভাষণ শুনতে ক্লিক করুন এখানে।