জাতীয়, লিড নিউজ

জাতীয়, লিড নিউজ

ডিসেম্বরে হচ্ছে না বইমেলা, কবে হবে?

ডিসেম্বরে একুশে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে বাংলা একাডেমি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পরই বইমেলার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

আগামী ১৭ ডিসেম্বর বইমেলা শুরু করার তারিখ আগে ঘোষণা করেছিল বাংলা একাডেমি। তবে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম জানান, ২১ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অমর একুশে বইমেলা আয়োজন করতে হবে। এ কারণে ২০২৬ সালের নির্ধারিত তারিখ আপাতত স্থগিত করা হলো।

এর আগে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে বইমেলা চলার কথা ছিল ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে এই তারিখ বাতিল হয়ে গেল।

বইমেলা স্থগিতের খবরে লেখক ও প্রকাশকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। লেখক মোজাফফর হোসেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে লিখেছেন, নির্বাচনের আগে বইমেলার আয়োজন সম্ভব নয়। মার্চে ঈদ থাকায় এপ্রিল-মে মাসে আয়োজনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে ২০২৬ সালে বইমেলা হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

আজব প্রকাশের প্রকাশক জয় শাহরিয়ার বলেন, তারিখ ঘোষণার পর থেকেই প্রকাশকরা প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। এখন স্থগিতাদেশে সৃজনশীল প্রকাশনা বড় ধাক্কা খেল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের টেন্ডারভিত্তিক প্রকাশনাগুলোই বেশি সুবিধা পায়, অথচ ছোট প্রকাশকদের জন্য বইমেলাই মূল ভরসা। তার মতে, এ বছর আর বইমেলা হবে না। হলেও তা হবে জঘন্য— কারণ মার্চ-এপ্রিলে ঝড়ের মধ্যে উন্মুক্ত জায়গায় মেলা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

লেখক কিঙ্কর আহসান বলেছেন, ‘যেটা সঠিক, নায্য সেটার হয়ে আমি আজীবনই কথা বলবো। বইমেলা পেছানো হলো অবশেষে। ভালো কিছু হোক এটাই চাই। তবে খেয়াল রাখতে হবে বইমেলাটা একদম বাদ দিয়ে দেবার ষড়যন্ত্র যেন কেউ করতে না পারে। ডিসেম্বর মেলার জন্য সঠিক সময় ছিল না। ১ মাসের মেলায় লোকসান হতো প্রকাশক, লেখক, পাঠক সবার। বছর শেষে মানুষের হাতে টাকা থাকে না। ফেব্রুয়ারির দিকে ১-২ সপ্তাহ মেলা হতে পারে। আমার কাছে লেখক, পাঠক হিসেবে যেটা সঠিক মনে হয়েছে আমি সেটাই বলেছি।’

অন্যদিকে বিদ্যা প্রকাশের প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান খোকা স্থগিত সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, বইমেলা নতুন করে আয়োজন করা হোক ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদ দিবস থেকে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত।

অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম মনে করেন, জানুয়ারিতে মেলা আয়োজন করা সম্ভব। বাতিঘরের প্রকাশক দীপঙ্কর দাসও একইভাবে মত দিয়ে বলেছেন, জানুয়ারির ৫ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ পর্যন্ত বইমেলা হলে নির্বাচনের প্রভাব এতে পড়বে না।

তবে নির্বাচনের আগে বইমেলা আয়োজন না করা নিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকও জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মেলার আয়োজন করা হবে।

তবে নির্বাচনের পর এ বছরই বইমেলা আয়োজন সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে। অনিশ্চয়তার এই সময়ে প্রকাশনা শিল্পের সবচেয়ে বড় আসর একুশে বইমেলা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেটির উত্তর জানতে এখন অপেক্ষা সৃজনশীল মহলের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত