
খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মন্তব্যকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে সেই দায় অন্যের ওপর চাপানোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরও মন্তব্য করেন, সরকারের উচিত হবে আত্মসমালোচনা করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় উগ্রপন্থীদের সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাগড়াছড়িতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ভারতের ইন্ধন থাকার অভিযোগ করেছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি মহল অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
খাগড়াছড়িতে সহিংসতার সূত্রপাত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়ি এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের পর। এ ঘটনার বিচার দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ সংগঠনের ডাকে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধ চলাকালে গত রোববার গুইমারা উপজেলায় সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। এ সময় সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য, গুইমারা থানার ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় অনেকে আহত হন।
ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের পর ঢাকার কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উত্তেজনা দুই দেশের সম্পর্কেও অস্বস্তির ছাপ ফেলতে পারে।