অর্থ ও বাণিজ্য, নির্বাচিত

অর্থ ও বাণিজ্য, নির্বাচিত

আস্থা আর স্বাদের গল্পে হিরা’স হ্যান্ড ক্রাফট

নিজের হাতে তৈরি খাবার মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আনন্দই তাকে উদ্যোক্তা করেছে। রান্নার প্রতি ভালোবাসা আর স্বাধীনভাবে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই শুরু— সেই যাত্রার নাম হিরা’স হ্যান্ড ক্রাফট। ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার ও আচার নিয়ে কাজ করা ফারজানা ইমরাওজ হিরা বিশ্বাস করেন, খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়; এটি সংস্কৃতি, যত্ন আর বিশ্বাসেরও নাম।

রোজকার খবরের বিশেষ প্রতিনিধি ফারজানা জিতুর সঙ্গে আলাপে হিরা জানান, ছোটবেলা থেকেই নিজের তৈরি কিছু মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। উদ্যোক্তাদের জীবন ও ভাবনা নিয়ে শিল্পপুরাণআরশিনগরের সৌজন্যে রোজকার খবরের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ প্রকাশিত হল এই বিশেষ প্রতিবেদন।

হিরা বলেন, ছোটবেলাতেই হয়তো ‘উদ্যোক্তা হওয়া’র নাম জানা ছিল না, কিন্তু ভেতরের ইচ্ছেটা ছিল স্পষ্ট— নিজের হাতে কিছু বানাবেন, মানুষ তা ব্যবহার করবে। আজ উদ্যোক্তা হিসেবে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্ন অনেকটাই পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এই যাত্রায় পারিবারিক সমর্থন ছিল বড় শক্তি। হিরার ভাষায়, পরিবারের উৎসাহ ও সহযোগিতা না পেলে এতদূর আসা সম্ভব হতো না। ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মানুষের আস্থা অর্জন করা। মান বজায় রাখা, নিয়মিত নতুনত্ব আনা আর ক্রেতার প্রত্যাশা বোঝা— এই তিনটি বিষয়েই তাকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

শুরুর পথে ব্যর্থতাও এসেছে। কিছু পণ্য বাজারে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি, হতাশাও এসেছে। তবে সেই হতাশায় থেমে যাননি হিরা। তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের চাহিদা না বুঝে এগোনো যায় না। তাই প্রতিটি ব্যর্থতাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে আবার নতুন করে চেষ্টা করেছেন। ধৈর্য আর নিয়মিত উন্নতির চেষ্টাই তাকে আজকের অবস্থানে এনেছে।

তরুণদের উদ্দেশে তার বার্তা স্পষ্ট— শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের কিছু তৈরি করার সাহস রাখতে হবে। উদ্যোক্তা হলে শুধু নিজের জীবনে পরিবর্তন আসে না, সমাজও উপকৃত হয়। নতুন যারা শুরু করতে চান, তাদের জন্য হিরার পরামর্শ— একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র বেছে নেওয়া, বাজার গবেষণা করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— ধৈর্য ধরে সৎভাবে কাজ করে যাওয়া।

হিরা মনে করেন, তার উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু একটি ব্যবসা নয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সংস্কৃতিরও বিস্তার ঘটছে। ভবিষ্যতে তিনি হিরা’স হ্যান্ড ক্রাফটকে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে চান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারকে পরিচিত করে তুলতে চান। তার স্বপ্ন, খাবার ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করা।

নিজের উদ্যোগের পথে আত্মবিশ্বাসী হিরা বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা দিয়ে তৈরি খাবারই মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। সেই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন— এক হাতে স্বপ্ন, অন্য হাতে ঘরে তৈরি খাবারের ঘ্রাণ।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত