ইসলামী ব্যাংকে মূল্যায়ন পরীক্ষা ঘিরে অস্থিরতা, ওএসডি ৪৯৫৩, ছাঁটাই ২০০

Post Thumbnail

কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পাওয়া কর্মকর্তাদের যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা ঘিরে ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ায় ৪ হাজার ৯৫৩ জনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এছাড়া চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ২০০ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত রোববার ও সোমবার চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিক্ষোভ হলে পুলিশ কর্মীদের সরিয়ে দেয়।

ব্যাংকের চাক্তাই শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জিয়া উদ্দিন নোমান এ পরীক্ষার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২১ আগস্ট হাইকোর্টে রিট করেন। আদালতের নির্দেশ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের নিয়োগ বা চাকরিতে রাখা-না রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত।

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকে ২১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার জনকে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় এমন নিয়োগপ্রাপ্তের সংখ্যা ৭ হাজার ২২৪, যার মধ্যে পটিয়ার বাসিন্দা ৪ হাজার ৫২৪ জন।

ব্যাংকের অতিরিক্ত এমডি ড. কামাল উদ্দীন জসীম জানিয়েছেন, ২০১৭–২০২৪ সালের নিয়োগে নীতিমালা মানা হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে আয়োজন করা হয় মূল্যায়ন পরীক্ষা। অংশ না নেওয়াদের ওএসডি করা হয়েছে, আর সামাজিক মাধ্যমে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে ২০০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি জানান, অনেকের সনদ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে; কিছু বিশ্ববিদ্যালয় যাচাইয়ে অস্বীকৃতি জানানোয় জাল সনদের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে ব্যাংক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ কমপ্লায়েন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিধিবহির্ভূত নিয়োগপ্রাপ্তদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয় গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি।