
সাতক্ষীরা জেলার অন্যতম প্রসিদ্ধ ফলের নাম কুল। এ জেলার নামকরণে গাণিতিকভাবে যে সাতটি বিষয় প্রসিদ্ধ, তার মধ্যে অন্যতম হলো কুল। বর্তমানে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন উন্নত জাতের কুলের আবাদ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরার বেলে দোঁআশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। অনুকূল আবহাওয়া আর কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় জেলার কৃষকদের মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে। স্বাদ ও গুনাগুণের কারণে সারা দেশেই সাতক্ষীরার কুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগ মনে করছে, আমের পাশাপাশি এখন এই সুস্বাদু কুল বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮৪৪ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুলের আবাদ হয়েছে। যা থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ফলন আশা করা হচ্ছে। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। লাভজনক হওয়ায় জেলার অনেক অনাবাদি জমিতে এখন সারি সারি কুল বাগানের দেখা মিলছে। বাগানগুলোতে শোভা পাচ্ছে বল সুন্দরী, ভারত সুন্দরী, থাই, আপেল কুল, বাউ কুল, তাইওয়ান কুল, নারিকেল কুল, ঢাকা নাইনটি ও টক কুলসহ নানা জাতের কুল।
সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক ইমদাদুল হক জানান, তাঁর দুই বিঘা বাগানে ভারত সুন্দরী, বল সুন্দরী ও টক কুলের ফলন এবার বেশ ভালো হয়েছে। তবে সার ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। তিনি আশা করছেন, ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে করা এই বাগান থেকে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করতে পারবেন।
একই এলাকার অপর চাষি মোরশেদুল আলম জানান, তিনি চার বিঘা জমিতে টক, থাই আপেল, বল আপেল ও বিলাতি কুল চাষ করেছেন। বর্তমানে বাজারে বিলাতি কুল ১৭০-১৮০ টাকা এবং অন্যান্য জাতের কুল ১২০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কুল বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক শ্রমিকও। শ্রমিক আকছেদ আলী জানান, প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেয়ে তিনি পরিবার নিয়ে বেশ ভালো আছেন।
বাঁশদহা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান ডালিম জানান, এ ইউনিয়নে এবার প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে কুলের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনির হোসেন বলেন, ‘সাতক্ষীরার ঐতিহ্যের সঙ্গে কুলের নাম জড়িয়ে আছে। এ জেলায় উৎপাদিত কুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।’