
গত কয়েক সপ্তাহের উত্তপ্ত বাক্যবাণ, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাহাড় ঠেলে অবশেষে শান্ত হলো রাজপথ। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণা। এখন কেবলই ভোট উৎসবের প্রহর গুনছে দেশবাসী।
শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা
তফশিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে মাঠের সব ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা ও মাইকিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তবে মাঠের প্রচার বন্ধ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
একনজরে নির্বাচনী পরিসংখ্যান
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের ভোট আপাতত স্থগিত রয়েছে।
এবারের নির্বাচনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ
সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে থাকছেন এক লাখ সেনাসদস্য। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দেশি প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক উপস্থিত থাকছেন।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে
এবারের নির্বাচনের বড় বৈশিষ্ট্য হলো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া। ফলে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ইসি জানিয়েছে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমেই রায় দেবেন ভোটাররা। অধিকসংখ্যক ব্যালট ও ভোটারের কারণে ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে।
ইতোমধ্যেই সারাদেশে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল অপেক্ষা বৃহস্পতিবার ভোরের, যখন কোটি কোটি ভোটার নির্ধারণ করবেন আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা।