
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয়ে জনগণকে কনভিন্স করে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসাটাই বিএনপির ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান একে ‘উদারপন্থি গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলকেই অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, আর বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
বিজয় উদযাপনে শান্ত ও সংযত থাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তবে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু সেই বিরোধ যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধে রূপ না নেয়। যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারকে যাত্রা শুরু করতে হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। আইনের প্রয়োগ হবে সম্পূর্ণ ন্যায়ের ভিত্তিতে।’
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধন্যবাদ জানান তিনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে তারেক রহমান দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।