জাতীয়, লিড নিউজ

জাতীয়, লিড নিউজ

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে জাতিসংঘের উদ্বেগ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা

বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকারের পরিপন্থী হওয়ার পাশাপাশি মৌলিক অধিকারগুলোকেও মারাত্মকভাবে সংকুচিত করতে পারে।

জাতিসংঘের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যান্ডেট— সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনকারী, ইচ্ছামত আটক সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনকারী— যৌথভাবে বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনের আওতায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা সংগঠন করার স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং মতপ্রকাশের অধিকারকে অপ্রয়োজনীয় ও অসমভাবে সীমিত করতে পারে। একইসঙ্গে এই পদক্ষেপের ফলে নাগরিকদের জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার এবং যথাযথ ন্যায়বিচারের পথও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা চিঠিতে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন যে, এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি (ICCPR)-এর অধীনে বাংলাদেশের দায়বদ্ধতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। চিঠিতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়। সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেই আন্দোলনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, এসব ঘটনার বিষয়ে এর আগে ২০২৪ সালেও বাংলাদেশ সরকারকে পৃথক যোগাযোগ পাঠানো হয়েছিল, তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে যে সরকারের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন এবং দেশটিতে মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত