
যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামে শুরু হয়েছে বাংলাদেশি শিল্পী সোমা সুরভী জান্নাতের একক শিল্প প্রদর্শনী। এটি যুক্তরাজ্যের কোনো প্রাচীনতম পাবলিক মিউজিয়ামে কোনো বাংলাদেশি শিল্পীর প্রথম একক প্রদর্শনী হিসেবে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করল।
গত ২৮ মার্চ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর প্রায় ৪০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।
অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের ইস্টার্ন আর্ট বিভাগের প্রধান এবং সাউথ এশিয়ান আর্ট বিভাগের কিউরেটর অধ্যাপক মল্লিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রাস এই প্রদর্শনীটি কিউরেট করেছেন। প্রদর্শনীতে রয়েছে :
প্রদর্শনী উপলক্ষে অধ্যাপক ল্যান্ড্রাস ১১২ পৃষ্ঠার একটি সচিত্র ক্যাটালগও প্রকাশ করেছেন। এটি ‘অ্যাশমোলিয়ান নাও’ সিরিজের পঞ্চম আসরের অংশ, যেখানে সমসাময়িক শিল্পীরা জাদুঘরের ঐতিহাসিক সংগ্রহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন শিল্পকলা সৃষ্টি করেন।
‘সোমা সুরভী জান্নাত : ক্লাইমেট কালচার কেয়ার’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীটি মূলত শিল্পীর ২০২৩ সালের রেসিডেন্সি চলাকালীন গবেষণার ফসল। সুন্দরবন এবং জাদুঘরের সংগ্রহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তার কাজে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক বৈষম্য, জলবায়ু সংকট এবং মানুষের দায়বদ্ধতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তৈরি করা এসব কাজের মাধ্যমে শিল্পী একটি টেকসই ও ন্যায্য ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান এই আয়োজনকে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। সোমার কাজ পরিবেশ ও পরিচয় নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
অন্যদিকে, অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক জা স্টারজিস বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫ বছর পূর্তির এই সময়ে এ প্রদর্শনীটি দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পের ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে।’
সেহের ও তাইমুর হাসান, সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশন, সোথেবিস এবং চার্লস ওয়ালেস বাংলাদেশ ট্রাস্টসহ বেশ কিছু সংস্থা এই প্রদর্শনী আয়োজনে সহযোগিতা করেছে।