

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে গণমাধ্যমকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি। গণমাধ্যমকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংঘটিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ, যার কোনো তামাদি নেই। তাই অভিযোগ পাওয়া গেলে বর্তমান বা অতীত সব সরকারের সময়কার দুর্নীতির অভিযোগই দুদক নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত করতে পারবে এবং সরকার এতে কোনো ধরনের বাধা দেবে না।
সম্প্রতি (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের তথ্য উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ দুর্নীতির জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়ী নন। দুর্নীতি তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি কমিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। আগামী বছরে দুর্নীতির পরিমাণ কমবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অতীতে অভিযোগ উঠেছিল উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দুদক তখনো কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের অভিযোগ হোক বা বর্তমান সরকারের সময়ের অভিযোগ সব ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে তদন্ত করার দায়িত্ব দুদকের।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকবে। দলটি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগ’ বা অন্য যে নামেই আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করুক না কেন, কোনো নামেই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। সরকারের অবস্থান এ বিষয়ে কঠোর বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য জারি করা অধ্যাদেশ সরকার আইনে পরিণত করেছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষেই সরকার রয়েছে।
চীন-বাংলাদেশ করিডর প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে কানেক্টিভিটির গুরুত্ব বেড়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটির বিষয়ে সরকার ইতিবাচক। তবে মায়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য করিডরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রকল্পটি নতুনভাবে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এতে নদী শাসনের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং নতুন ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে। কারিগরি সমীক্ষায় চীন সহযোগিতা করলেও অর্থায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।