আধুনিক ও প্রযুক্তি-নির্ভর পুলিশিংয়ের প্রস্তাব

জাতিসংঘে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Post Thumbnail

ভবিষ্যতের জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন’-এ তিনি এই জোরালো প্রস্তাব তুলে ধরেন।

দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের (৭ ও ৮ জুলাই) প্রথম অধিবেশনে বুধবার সালাহ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। সম্মেলনে তিনি বর্তমান বিশ্বের বহুমুখী ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাইবার অপরাধ, সংগঠিত অপরাধী চক্র এবং আন্তদেশীয় অপরাধ নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তারের কারণে প্রথাগত পুলিশিং ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি একটি নতুন আইডিয়া উপস্থাপন করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উদ্ভাবনী পদ্ধতি, সেরা অনুশীলন এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সফল অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ তার ফর্মড পুলিশ ইউনিটকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করে গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ফরেনসিক সক্ষমতার মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে প্রতিনিয়ত শক্তিশালী করা হচ্ছে, যা বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন। সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন কেবল পরিবেশগত বিষয় নয়, বরং এটি সামাজিক ও সীমান্ত সুরক্ষায় বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি বার্ষিক ‘পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

সম্মেলনে জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা ও সক্ষমতা বিনিময়ের ওপর জোর দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।