দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টি, ৪ বিভাগে আকস্মিকবন্যার পূর্বাভাস

Post Thumbnail

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের জনজীবন। আষাঢ়ের এই অঝোর ধারায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সারা দেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চারটি বিভাগে আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমের এই স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বায়ুর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে তীব্র রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আম বাগানে সর্বোচ্চ ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৩০ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭৫ মিলিমিটার ও মৌলভীবাজারে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয় ও ত্রিপুরাসহ সীমান্তবর্তী উজান অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে, যার প্রভাবে দেশের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু নদ, কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদী এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানিও যে কোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে সংস্থাটির মতে, এই বন্যা পরিস্থিতি স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী শনিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ময়মনসিংহের বিভিন্ন বস্তি এলাকা এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। আবহাওয়া অফিস বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।