পাহাড়ধসে তিন দিনে ২২ জনের প্রাণহানি

Post Thumbnail

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা চার দিনের অতি ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চল। বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের ঘটনায় গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাঙামাটিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বুধবারই প্রাণ হারিয়েছে সাত শিশু। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরী টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে অতি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের প্রায় চার কিলোমিটার রেলপথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। দুর্ভোগের শিকার যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে তাদের পথে এসে ফিরতে হচ্ছে। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ডুবে থাকা রেলপথ পরিদর্শন করে ভবিষ্যতে লাইন পাঁচ ফুট উঁচুতে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকা পড়েছেন প্রায় ৪৫০ জন পর্যটক। দীঘিনালা-সাজেক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় তাদের ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তাদের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাহাড়ধসের ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি মাদ্রাসার দেয়াল ধসে পাঁচ ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের সলিমপুর ও চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই অতি বর্ষণ ঘটছে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চট্রগ্রামের আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, হালিশহরসহ নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজারো পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রেখেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।