তৃণমূলের বিক্ষোভে বিজেপির বাধা, সংঘর্ষে আহত ১৫

Post Thumbnail

পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ডাকা তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল কলকাতার রাস্তা। বুধবার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা এই কর্মসূচি চলাকালে বিজেপির বাধার মুখে পড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে অন্তত ১৫ জন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিলটির অনুমতি ছিল। আদালতের শর্ত ছিল, মিছিল হবে রাস্তার এক পাশ দিয়ে এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হতে পারবে না এক হাজারের বেশি। কিন্তু মিছিল শুরুর আগেই বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ‘জয় শ্রীরাম’ ব্যানার লাগিয়ে অবস্থান নেন। মাইকে গান বাজানোর পাশাপাশি তারা তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়।

মিছিল এগোতে শুরু করলে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায়। তৃণমূল দাবি করেছে, বিজেপির হামলায় তাদের ১৫ জন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও শুরুতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাজ্য পুলিশ এখন পুরোপুরি দলদাসে পরিণত হয়েছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে, বারুইপুরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ নতুন সাফল্য পেয়েছে। মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর বুধবার ‘কবীর মোল্লা’ নামের আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে ঘটনায় সরাসরি জড়িত অভিযোগে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এছাড়া গত কয়েক দিনে বারুইপুরে অস্থিরতা সৃষ্টি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের দায়ে আরও ২০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।