

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় বুধবার দিবাগত রাতেও ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। দেশটির বন্দর আব্বাস, চাবাহার, সিরিক ও আবু মুসা দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের ফলে চাবাহার অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় অবস্থিত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বর্তমানে অক্ষত রয়েছে। বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এই হামলার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা হ্রাস করা বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের দাবি করেছে।
এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। বৃহস্পতিবার তার জন্মশহর মাশহাদে তার সমাধি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে পূর্বের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি ইরানকে নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, এই দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা আর সম্ভব নয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইরানকে কঠোর শাস্তি প্রদানের হুঁশিয়ারি আসে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসিন রাজেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। পবিত্র কোরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, আগ্রাসনকারী শত্রুদের এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।