

বিশ শতকের তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান স্থপতি স্টিভেন ওয়াইনবার্গ। ইলেক্ট্রোউইক ইউনিফিকেশন তত্ত্বের জনক হিসেবে পরিচিত এই বিজ্ঞানী ১৯৭৯ সালে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। প্রকৃতির মৌলিক বলগুলোর মেলবন্ধন ঘটানো এবং মহাবিশ্বের শুরুর মুহূর্তগুলো নিয়ে তাঁর কাজ বিজ্ঞানজগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
২০০৯ সালে জার্মান পদার্থবিদ স্টিফান ক্লেইনের সাথে এক আলাপচারিতায় নিজের কর্মজীবন ও বিজ্ঞানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেন ওয়াইনবার্গ। তিনি জানান, ১৯৬৭ সালে নিজের একটি গাড়িতে বসে কাজ করার সময়ই তিনি আলোর ফোটন ও দুর্বল নিউক্লীয় বলের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন। এই ঘটনাটিই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেল’-এর পথ প্রশস্ত করে।
ওয়াইনবার্গ মনে করেন, বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রকৃতিকে আরও সহজভাবে ব্যাখ্যা করা। তিনি পদার্থবিজ্ঞানীদের জন্য এমন এক ‘চূড়ান্ত তত্ত্ব’ বা ফাইনাল থিওরির স্বপ্ন দেখতেন, যা মহাবিশ্বের সবকিছুকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর অধীনে আনতে পারবে। তবে এই গবেষণার পথে অনেক বড় বাধা হলো মহাবিশ্বের স্কেল বা পরিমাপের বিশালতা। তিনি বলেন, “প্রকৃতির নিয়মগুলো আমাদের শেখায় যে মহাবিশ্বে মানুষের বিশেষ কোনো জায়গা নেই। তবে মহাবিশ্বকে বোঝার এই চেষ্টা মানবজীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলে এবং একধরনের মর্যাদা প্রদান করে।”
পদার্থবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের বোধগম্য করার জন্য তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন। বিজ্ঞানের জটিল গাণিতিক ভাষার চেয়ে গল্পের মাধ্যমে সাধারণকে বিজ্ঞানের মূল নীতিগুলো শেখানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি কখনো ব্যক্তিগত ঈর্ষায় জড়াননি, বরং নতুন কিছু শেখার আগ্রহই তাঁকে বারবার গবেষণায় উৎসাহিত করেছে।
জীবনের শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকৃতির মাঝে সৌন্দর্য ও রহস্য খুঁজে বেড়িয়েছেন। তাঁর মতে, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা চলতেই থাকবে, কারণ মহাবিশ্বের অজানাকে জয় করার এই অনিশ্চিত পথটিই একজন বিজ্ঞানীর জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয়।