
দেশে বর্তমানে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চরম সংকট চলছে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের এ থেকে উত্তরণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভা কক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আগ্রাসনরোধ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট।
সাংবাদিকতাকে শতভাগ সত্যের চর্চা হিসেবে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হবে পুরোপুরি সত্য। এখানে মিথ্যা কিংবা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই, আপসের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘যা ইচ্ছা তা লিখে দেয়া সাংবাদিকতা নয়। অথচ অহরহ এটা হচ্ছে। এ জন্য জবাবদিহি প্রয়োজন। সত্য লিখবেন, রাষ্ট্র আপনাকে নিরাপত্তা দেবে।’
বিগত সরকারের আমলের গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, দাস-সাংবাদিকদের মানুষ ঘৃণা করে। গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন সরকারের দলদাস সাংবাদিকদের গণবিরোধী ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
দেশে অপসাংবাদিকতার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বগল সম্পাদকরা এখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন। পত্রিকা ছাপিয়ে সেটি বগলে করে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তদবির বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছেন তারা। এসব বগল সম্পাদক ও হলুদ সাংবাদিকতার কারণে মানুষ আজ অতিষ্ঠ।’
সেমিনারে প্রতিবেশী ভারতের গণমাধ্যমের অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করেন কাদের গনি চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তথ্য আগ্রাসনের শিকার হচ্ছি। ২০২৫ সালে ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৪০টি ভুয়া প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। তারা দেশে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দিতে চায়।’
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বাছির জামাল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। তিনি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপমুক্ত পরিবেশ, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী ও জনমুখী গণমাধ্যম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) এবিএম রফিকুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য দেন বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতারা।