বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, লিড নিউজ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, লিড নিউজ

কড়াকড়ির পরও গ্রোকে তৈরি হচ্ছে অশালীন ছবি, বিপাকে মাস্ক

ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) নিয়ে আবারও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জনসমক্ষে আপত্তিকর ছবি তৈরিতে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিলেও নেপথ্যে গ্রোক এখনো মানুষের অশালীন বা যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করে চলেছে। এমনকি ব্যবহারকারীরা যখন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে ছবিটির মূল ব্যক্তির এতে সম্মতি নেই, তখনও গ্রোক তা আমলে নিচ্ছে না।

মাস্কের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) গত সপ্তাহে গ্রোকের আউটপুট নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু রয়টার্সের ৯ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, চ্যাটবটটি এখনো আপত্তিকর ছবি তৈরিতে সক্ষম। এমনকি কোনো ব্যক্তির ছবি দিয়ে সেটি বিকৃত বা অবমাননাকর করার অনুরোধ করলেও গ্রোক তা পালন করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংবাদ সংস্থাটির পক্ষ থেকে গ্রোককে ৫৫টি ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশ বা ‘প্রম্পট’ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৪৫টি ক্ষেত্রেই গ্রোক অশালীন ছবি তৈরি করেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ৩১টি ক্ষেত্রে গ্রোককে আগেভাগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে ছবিটির মূল ব্যক্তি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন বা এটি তাকে অপমান করার জন্য করা হচ্ছে— তা সত্ত্বেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই টুলটি ছবি তৈরি করা বন্ধ করেনি।

একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, লন্ডনের এক সাংবাদিক তার একজন সহকর্মীর স্বাভাবিক ছবি দিয়ে সেটিকে বিকৃত করার নির্দেশ দেন এবং জানান যে ওই সহকর্মী এতে মোটেও রাজি নন। জবাবে গ্রোক দুই সেট আপত্তিকর ছবি তৈরি করে দেয়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি কাঁদছেন— এমন কাল্পনিক তথ্য দেওয়ার পরও গ্রোক আরও কুরুচিপূর্ণ ছবি তৈরি করতে থাকে।

এর আগে গ্রোকের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের আপত্তিকর ছবি তৈরি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এক্স কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধ আরোপের দাবি করেছিল। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফকম’ মাস্কের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ইউরোপীয় কমিশন বিষয়টি নিয়ে এখনও সতর্ক পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে।

রয়টার্সের অনুসন্ধানের বিষয়ে মাস্কের এআই প্রতিষ্ঠান ‘এক্সএআই’ (xAI) সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় বরাবরের মতোই মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করে বলা হয়েছে, ‘লিগ্যাসি মিডিয়া মিথ্যা বলছে’।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা আগামীতে এআই নিরাপত্তা এবং মানুষের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যেখানে মূল ব্যক্তির কোনো সম্মতি ছাড়াই ছবি বিকৃত করা হচ্ছে, সেখানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও জোরালো হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত
PhotoCard Icon
Create PhotoCard