বিদেশ, লিড নিউজ

বিদেশ, লিড নিউজ

বাবার জানাজায় কেন অনুপস্থিত মোজতবা খামেনি?

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। তবে এই বিশাল আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার ছেলে ও দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রহস্যজনক অনুপস্থিতি। রোববার তেহরানে অনুষ্ঠিত জানাজায় খামেনির অন্য তিন ছেলে মাসউদ, মোস্তফা ও মেইসাম, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং বিপ্লবী গার্ডের প্রধানসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও মোজতবা খামেনির দেখা মেলেনি। গত মার্চে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জনসমক্ষে আসছেন না।

তার এই অনুপস্থিতির পেছনে বেশ কিছু কারণ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেই ধারণা করছেন, যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হয়েছেন, সেই একই হামলায় মোজতবাও আহত হয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া, ইসরায়েলি গুপ্তহত্যার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলেও গভীর নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, এক সপ্তাহব্যাপী এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। তারা একে ‘শতাব্দীর সেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করছেন। রবিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ৯৭ বছর বয়সি প্রবীণ শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি তাবরিজি। সেখানে প্রচণ্ড ভিড় ও গরমে চার হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিলেও পদদলিত হয়ে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, খামেনির কফিনের পাশে ওই হামলায় নিহত তার এক বছর বয়সি নাতনিসহ পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা ছিল।

বর্তমানে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে এবং খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কারণে শান্তি আলোচনা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, জানাজায় উপস্থিত ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক হামলাতেই যুক্তরাষ্ট্র হত্যা করতে পারত, কিন্তু আলোচনার স্বার্থে তা করা হয়নি। তিনি ইরানিদের শোককে ‘ভুয়া কান্না’ বলেও কটাক্ষ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় জানাজায় আসা সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শোকাহত জনতাকে ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’, ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’, ‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’, ‘বিবিকে হত্যা করো’ এবং ‘আমরা প্রতিশোধ নেব’ ইত্যাদি ব্যানার বহন করতে ও স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সোমবার তেহরানে বিশাল শোকযাত্রার পর খামেনির কফিন মঙ্গলবার কোম শহরে নেওয়া হবে। এরপর বুধবার সেটি প্রতিবেশী ইরাকের একটি পবিত্র শিয়া ধর্মীয় স্থানে নেওয়া হবে এবং বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্মস্থান মাশহাদে নিয়ে গিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করা আলী খামেনি সারাজীবন পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ নীতি অনুসরণ করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত
PhotoCard Icon
Create PhotoCard