দেশ

দেশ

বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও সরঞ্জামসহ আটক ১

রাজধানীর কদমতলী এলাকা হতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সহকারী পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এম. জে. সোহেল গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে যে, একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন যাবত জাল নোট তৈরি করে রাজধানী ঢাকার কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছে। এই চক্রটি জাল নোটের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই প্রতারক চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০:৪৫টায় র‌্যাব-১০ এর একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানী ঢাকার কদমতলী এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে একজন জাল টাকা প্রস্তুতকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোঃ জিসান হোসেন রিফাত (১৯), পিতা-মোঃ দিদারুল আলম, সাং-কুতুবখালী, থানা-যাত্রাবাড়ী, ঢাকা। এ সময় তার নিকট হতে ০২,৩০,৯০০/- (দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার নয়শত) টাকার মূল্যমানের জাল নোট (যার মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকা সমমানের জাল নোট), একটি মনিটর, একটি সিপিইউ, একটি কালার প্রিন্টার, চারটি হার্ডডিক্স, একটি মাউজ, একটি কি-বোর্ড,  চারটি ক্যাবল, দুইটি স্কিন প্রিন্টিং ফ্রেম, একটি জাল টাকা কাটার কাঠের বোর্ড, আটটি এন্টি কার্টার ব্লেড, একটি কাঁচি, দুইটি ফেভিকল আঠা ও জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ২৬৪ পিস সাদা কাগজসহ জালনোট তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত জিসান সংঘবদ্ধ চক্র কর্তৃক ব্যবহৃত টেলিগ্রাম অ্যাপস, ইউটিউব ও গুগলসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের সাহায্যে জাল টাকা তৈরির সার্বিক দক্ষতা অর্জন করে। অতঃপর জিসান উচ্চভিলাষী অভিপ্রায় ও কম সময়ে অল্প পুঁজিতে অধিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে জাল টাকা প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে সে জাল টাকা তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয় করে এবং জাল টাকা সরবরাহের জন্য জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহকারী বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেইজ ও গ্রুপে সংযুক্ত হয় যেখানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র টেলিগ্রাম অ্যাপস ব্যবহার করে জাল টাকা তৈরির প্রযুক্তি আদান-প্রদান করে এবং জাল টাকা বিক্রির জন্য নেটওয়ার্ক হিসেবে ব্যবহার করে। জিসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খোলে এবং সেখানে সে জাল নোট তৈরি/সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করে অভিনব কায়দায় জাল নোটগুলো বিক্রয় করত। সে তার ফেইসবুক গ্রুপ হতে কমেন্ট দেখে তাদের সাথে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং-এর মাধ্যমে ক্লায়েন্ট তৈরি করে অগ্রীম টাকা নিয়ে নিত এবং পরবর্তীতে তাদের সুবিধাজনক স্থানে জাল নোটগুলো সরবরাহ করতো।

জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায়, উক্ত চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার কদমতলী, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, ডেমরা এবং নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তৈরিকৃত জাল নোট সরবরাহ করত। সে প্রতি এক লক্ষ টাকা মূল্যের জাল নোট ১০-১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত। জাল টাকা সরবরাহকারী চক্রটি মাছ বাজার, লঞ্চ ঘাট, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন মার্কেটে নানান কৌশল অবলম্বন করে জাল নোট সরবরাহ করে আসছিল। এছাড়াও জিসান অধিক জন-সমাগম অনুষ্ঠান বিশেষ করে বিভিন্ন মেলা, উৎসব, পূজা ও কোরবানীর পশুর হাট উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ছাপিয়ে ছিল বলে তথ্য প্রদান করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে জালনোট প্রিন্টিং-এর সময় কাগজের অব্যবহৃত ও নষ্ট অংশগুলো পুড়িয়ে ফেলত। এ পর্যন্ত জিসান বিভিন্ন সময়ে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যমানের জাল নোটের ব্যবসা করেছে বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

বিষয়:
পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে ১০০ বোতল ফেনসিডিল আটক

ঠাকুরগাঁওয়ে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ ১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৮টায় সদর উপজেলার খোঁচাবাড়ী বাজার হতে নারায়ণগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস বন্ধু এক্সপ্রেস নামক কোচ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত মোঃ দুলাল হাসান (১৬) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা পশ্চিম পাড়া গ্রামের মোঃ শাহিনুর ইসলামের ছেলে। এই ঘটনায় একই ইউনিয়নের ভানোর আম পাথারী এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোঃ কামাল হোসেন (৩৫) পলাতক রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এবিএম ফিরোজ ওয়াহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস‌আই (নি‍ঃ) আব্দুস সোবাহান ওই এলাকায় মাদকদ্রব্য অভিযান পরিচালনা করে ১০০ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুকে আটক করে। মাদক ব্যবসায়ীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় ফেনসিডিল সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি করছে। আটককৃত কিশোরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

পরবর্তী খবর

বাঘায় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে জনসংযোগ বিষয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাজশাহীর বাঘায় দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাথে জনসংযোগ সংক্রান্ত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১জুন) সকাল ১১টায় উপজেলা প্রশাসন ও জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমরান হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস রাজশাহী’র সহকারী পরিচালক আখতার-উজ-জামান।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও বাংলাদেশে অনেক মানুষ বেকার। আচ্ছা আপনারা কেউ বলবেন এই ব্যর্থতার দায় কি সরকারের? না; এই ব্যর্থতা সরকারের নয়, এই ব্যর্থতা আমাদের সকলের। কারণ আমরা নিজেদেরকে দক্ষ কর্মী হিসেবে তৈরি করতে পারি না। শুধুমাত্র আমরা পড়াশুনা এবং চাকরির পেছনে ছুটি।

সেমিনারে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকতর কল্যাণ ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে তিনি আরও বলেন, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়া এবং যাওয়ার আগে সকল কাগজপত্র চেক করা, মেডিকেল চেকআপ করতে হবে। যারা বৈধভাবে বিদেশে কর্মরত আছেন, তাদের পরিবারে প্রতিবন্ধী কোন শিশু থাকলে তাদের জন্য আলাদা ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করেছে সরকার। এমনকি বিদেশে গিয়ে মৃত্যুবরণ কিংবা কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন সেবা চালু রেখেছে সরকার।

দেশের সকলকেই তো চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং চাকরির পিছনে না ছুটে আমরা নিজেদেরকে নিজেরা বিভিন্ন কাজে দক্ষ হিসেবে তৈরি করে তুলি। তাহলেই এদেশে বেকারত্ব দূর হবে এবং সমাজে যত সমস্যা রয়েছে সব সমাধান হতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের আয়ের অন্যতম উৎস বৈদেশিক রেমিট্যান্স। বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে অনেকেই যে ভুলটা করেন, তা হলো দক্ষ না হয়ে বিদেশ যাত্রা। আবার অনেকেই আছেন, যারা সঠিকভাবে বৈধ পন্থায় না গিয়ে দালালদের মাধ্যমে বিদেশে যান। এক্ষেত্রে তারা নিজেদের ক্ষতির পাশাপাশি সরকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই যারা বিদেশে যেতে চান, তারা যেন অবশ্যই বৈধ পন্থায় সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত এজেন্সির মাধ্যমে যান। এখানে যারা উপস্থিত আছেন প্রত্যেকের প্রতি আমি বিনীত অনুরোধ করবো প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে, নিজেকে যোগ্য করে গড়ে বিদেশ গমনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তবেই আমাদের সফলতা আসবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা পুঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার পান্ডে বাকু, সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব কুমার সাহা, রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন পেশায় কর্মজীবীগণ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত