
দেশের ব্যাংক খাত থেকে অর্থ লুটপাটকারী এবং বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এই লুটেরাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ডিম থেরাপি’ দেওয়ার দাবি তোলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২১তম কার্যদিবসে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের কোনো ক্ষমা নেই। তারা বিশ্বের যেখানেই থাকুক, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তাদের কাছ থেকে লুট করা অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনে ‘ডিম থেরাপি’ ব্যবহারের দাবি জানান তিনি।
সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, কয়েকটি ব্যাংকের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে লাখো আমানতকারী আজ অসহায়। অনেকের সারা জীবনের সঞ্চয়, মেয়ের বিয়ের টাকা, সন্তানের পড়াশোনার খরচ কিংবা চিকিৎসার শেষ সম্বল ব্যাংকে আটকে আছে। টাকা তুলতে না পেরে অনেক গ্রাহক চিকিৎসা করাতে পারছেন না, এমনকি সময়মতো চিকিৎসার অভাবে অনেকের মৃত্যুও হয়েছে। অথচ অভিযুক্তরা বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। তিনি লুটপাটকারীদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আর্থিক খাত পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তুলেছে। এর অংশ হিসেবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে ‘ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকার নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।