দেশ

দেশ

ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭৫ বছর পূর্তি উদযাপন পর্ষদ গঠিত

দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় ১৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ডিসেম্বর মাসে এক বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী ও উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। ১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে দুদিনের এই উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে উদযাপন পর্ষদ, উপদেষ্টা পর্ষদ এবং সমন্বয়ক পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

উৎসব সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার সাঈদুর রহমান এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্না। ৫০টিরও বেশি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত এই পর্ষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে শাব্বির হোসেন মনিকে।

এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আরও ১৬ জন। তাঁরা হলেন— কাজী জোবায়দুল হক টুলু, এস এম শামীম হাসান, সৈয়দ মান্নাফ হোসেন খসরু, মো. আমীর হোসেন সাগর, মাহফুজুর রহমান মবিন, মোস্তফা মাহমুদ আরেফি, মাহবুবুর রহমান সোহেল, অশোকেশ রায়, শোয়েবুল ইসলাম, মো. শেখ আব্দুল জলিল, দিদারুল মাহমুদ খান টিটু, শাহীন হক, উজ্জ্বল হোসেন, মুহাম্মদ শামীম হোসেন, সৈয়দ আলাওল হোসেন তনু এবং মো. আবু সাঈদ খান রানা।

উৎসবকে ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, প্রকাশনা, ক্রীড়া ও বিভিন্ন আয়োজন পরিচালনার জন্য আরও ১৪টি উপ-পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে গঠিত সমন্বয়ক পর্ষদের প্রধান সমন্বয়ক নির্বাচিত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান। অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের এসএসসি ব্যাচ থেকে শুরু করে ৩০টিরও বেশি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত উপদেষ্টা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ঈশান মেমোরিয়াল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ১১তম প্রস্তুতি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পর্ষদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সৈয়দ আব্দুল আউয়াল নান্নার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান উপদেষ্টা, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

সভায় বক্তারা বলেন, “ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৭৫ বছর পূর্তির এই আয়োজন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের জন্য এক সেতুবন্ধন তৈরি করবে।”

আয়োজকরা জানিয়েছেন, উৎসবের নিবন্ধন কার্যক্রম ও অন্যান্য প্রস্তুতি ইতোমধ্যে জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশে অবস্থানরত হাজারো প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই উৎসবে অংশ নিয়ে বিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসের অংশীদার হবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত