বিদেশ

বিদেশ

রুশ হামলার শঙ্কায় প্রদর্শন সামগ্রী সরিয়ে নিচ্ছে কিয়েভের হলোদোমোর জাদুঘর

কিয়েভের হলোদোমোর জাদুঘরের একটি অন্ধকার প্রদর্শনী কক্ষে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন চারজন কর্মী। পোশাক, ধর্মীয় প্রতিকৃতি, বই ও ধাতব কৃষি সরঞ্জামের ওপর থাকা কাচের সুরক্ষা বেষ্টনী সযত্নে খুলে নিচ্ছেন তারা। এসব নিদর্শন মূলত ১৯৩২-৩৩ সালে সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের শাসনামলে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রাণ হারানো লাখো মানুষের স্মৃতিচিহ্ন। ইউক্রেনসহ বিশ্বের অনেক দেশ ওই দুর্ভিক্ষকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইউক্রেনের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় হলোদোমোর জাদুঘরটিও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর এ কারণেই জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের মূল্যবান সংগ্রহশালা গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

জাদুঘরের উপ-মহাপরিচালক ওলগা মেলনিক এএফপিকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালাচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এসব নিদর্শনের অধিকাংশই দুর্ভিক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া স্মারক। সোভিয়েত আমলে ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়েও প্রজন্মের পর প্রজন্ম এগুলো সংরক্ষণ করে এসেছে।

ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশটিতে প্রায় দুই হাজার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং আড়াই হাজার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত জুনে রুশ ড্রোনের আঘাতে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী একাদশ শতকের পেচেরস্ক লাভরা মঠে আগুন লাগে। এতে এর কেন্দ্রীয় ডরমিশন ক্যাথেড্রালের ছাদ পুড়ে যায়। এছাড়া রুশ হামলায় ইউক্রেনের প্রাচীনতম শিল্পসংগ্রহের অন্যতম খারকিভ আর্ট মিউজিয়াম, নিপ্রোর একটি বড় আর্ট গ্যালারি এবং কিয়েভের চলচ্চিত্র স্টুডিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রেও দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ড্রোন হামলা চালানো হয়।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত
PhotoCard Icon
Create PhotoCard