অর্থ ও বাণিজ্য

অর্থ ও বাণিজ্য

কৃষিঋণের সুদহারও বাড়ল

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপে সাধারণ ঋণের পাশাপাশি কৃষিঋণের সুদহারও বাড়ানো হলো। এখন থেকে কৃষিঋণের সুদহার হবে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ, যা আগে ১০ শতাংশের নিচে ছিল। একই সঙ্গে প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের সুদহারও বেড়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রি-শিপমন্টে রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি ও পল্লীঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে স্মার্ট সুদহারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ মার্জিন দেওয়া হয়েছে, এত দিন যা ছিল আড়াই শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকঋণে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ মার্জিন যোগ করা যাবে। এত দিন এটি সাড়ে ৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নির্দেশনার কারণে বিতরণ করা ঋণে গ্রাহকপর্যায়ে সুদহার দাঁড়াবে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ। নতুন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ধার নেওয়ার খরচ যেমন বাড়বে, তেমনি গ্রাহকপর্যায়ে ঋণ সুদহারও বাড়বে।

নতুন সুদহার অনুযায়ী, প্রি-শিপমন্টে রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি ও পল্লীঋণের সুদহার নির্ধারণ করতে হবে স্মার্ট সুদহারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এত দিন যা ছিল আড়াই শতাংশ। এতে প্রি-শিপমন্টে রপ্তানি ঋণ এবং কৃষি ও পল্লীঋণের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ সুদ নিতে পারবে ব্যাংক। এর আগে গত রবিবার নীতি সুদহার হিসেবে পরিচিত ওভারনাইট রেপো সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ করে। এত দিন যা ছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর আগে সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রেপো সুদহার শূন্য দশমিক ৭৫ বেসিস পয়েন্ট ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। একক সিদ্ধান্তে রেপো রেট বাড়ানোর এ হার ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

দুই সংখ্যার ঘরে ছুঁই ছুঁই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত জুলাই থেকে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে গত প্রায় পাঁচ মাসে তিন দফায় সুদহার বাড়ানো হলো। নীতি সুদহার বা ওভারনাইট রেপো সুদহার বাড়ানোর সঙ্গে বাড়বে সুদহার করিডরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) হারও। ৫০ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির পর এসএলএফ হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এত দিন যা ছিল ৯ দশমিক ২৫।

সুদহার করিডরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার হবে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এত দিন যা ছিল ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ

বিষয়:
পরবর্তী খবর

উদ্যোক্তাদের ‘দক্ষতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ

এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশের আয়োজনে রাজধানীর টিকাটুলীতে অবস্থিত এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিন ব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের জন্যে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণ প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ।

বুধবার (১২ জুন) সকালে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রথম ব্যাচে ২৫ জন উদ্যোক্তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিকর্ণ কুমার ঘোষ।

প্রধান অতিথি তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে তাঁদের স্বপ্নটাকে বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। তাঁদের স্বপ্ন ছিল একটা সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে অসম্ভবকে সম্ভব করার সাহসীকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। উদ্যোক্তাদের সেই সাহস আছে। তাদের সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং প্রস্তুতি পারে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে। তিনি বলেন, যারা উদ্যোক্তা তারা ঝুঁকি নিতে জানে। ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া বড় পরিবর্তন সম্ভব না। তাই চাকরিজীবীদের দিয়ে যে অগ্রগতি সম্ভব না, উদ্যোক্তাদের দিয়ে তা সম্ভব। বিকর্ণ কুমার ঘোষ উদ্যোক্তাদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা দেন।

প্রথম দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশনের মডারেটর ও ঢাকা জেলা এম্বাসাডর হোসাইন আল মামুন এবং টার্টেল ভেঞ্চারের মেহেনাজ জামান।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের জন্যে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ঋণ প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তারা নিয়মিত পরিচালনা করবেন। প্রথম ব্যাচে এবার বাছাইকৃত পঁচিশজন উদ্যোক্তাকে সুযোগ দিতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক উদ্যোক্তাকে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগ এবং লোন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সহজ করতে তারা কাজ করছেন।

এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশের এই আয়োজনে পার্টনার হিসেবে রয়েছে নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন, টার্টেল ভেঞ্চার এবং দ্রুত লোন। আগামীকাল প্রথম ব্যাচের এই প্রশিক্ষণ শেষ হবে।

পরবর্তী খবর

১৮০৫ কেজি আম নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়ল ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চালু হলো আম পরিবহনের বিশেষ ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রায় ১৮০৫ কেজি আম নিয়ে ছেড়ে যায় ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। কম খরচে আম পরিবহনের বিষয়টি মাথায় রেখে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ৫ম বারের মত আম পরিবহনের বিশেষ এ ট্রেন চালু করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা প্রতি কেজি আম পরিবহনে খরচ হবে ১ টাকা ৪৮ পয়সা।

সোমবার বিকাল ৫টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশনে ম্যাংগো ও ক্যাটেল ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছমিনা খাতুন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক, বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদসহ অনান্যরা।

এর আগে সোমবার বিকাল ৪টায় রহনপুর স্টেশন থেকে ১০২০ কেজি আম নিয়ে যাত্রা শুরু করে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন। এরপর নাচোল, আমনুরা জংশন হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশনে আরো ৭৮৫ কেজি উঠানো হয়। পরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আম নিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় ট্রেনটি।এরপর রাজশাহী, সরদহ রোড, আনাড়ী, আব্দুল্লাহপুর, ইশ্বরদী,পোড়াদহ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ভাঙ্গা হয়ে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাবে আমের এ বিশেষ ট্রেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ ওবাইদুল্লাহ জানান, এ ট্রেনে আম ছাড়াও শাকসবজি, ডিমসহ অনান্য কৃষি পণ্য পরিবহন করা যাবে। তিনি আরও জানান, আজ উদ্বোধন করা হলেও আগামী ১২ তারিখ থেকে তিনদিন ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত