জীবনযাপন, ফিচার

জীবনযাপন, ফিচার

বর্ষার জলাবদ্ধ পানিতে হেঁটেছেন? বাসায় ফিরেই এই ৭টি কাজ না করলে বাড়তে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি

বর্ষার অঝোর ধারায় প্রকৃতি সতেজ হয়ে উঠলেও শহরের রাস্তাঘাটে জমে থাকা পানি জনজীবনে বয়ে আনে ভোগান্তি। অফিস বা প্রয়োজনে বাইরে বের হলে এই পানি মাড়িয়ে চলাচল করা অনেকের কাছেই নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাধারণ বৃষ্টির পানির আড়ালে লুকিয়ে থাকা নর্দমার ময়লা, পশুর বর্জ্য বা নানা ধরনের রাসায়নিক মিশ্রিত এই পানি শরীরের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর কয়েকটি সহজ অভ্যাস আপনাকে সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।

১. দ্রুত গোসল করা : জলাবদ্ধ পানির সংস্পর্শে আসার পর বাসায় ফিরে যত দ্রুত সম্ভব সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল সেরে নিন। শুধু পা নয়, শরীরের যেসব অংশ পানির সংস্পর্শে এসেছে, সেসব জায়গা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা জরুরি।

২. ক্ষত পরীক্ষা করা : বর্ষার ঘোলা পানির নিচে অনেক সময় কাচ, মরিচা ধরা লোহা বা ধারালো বস্তু থাকতে পারে। পায়ে ছোট কোনো কাটা বা ক্ষত আছে কি না, তা পরীক্ষা করুন। ক্ষত থাকলে দ্রুত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। গভীর ক্ষত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. পোশাক ও জুতা পরিবর্তন : ভেজা কাপড় বা মোজা বেশিক্ষণ পরে থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, চুলকানি বা র্যাশের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাসায় ফিরে দ্রুত শুকনো কাপড় পরুন এবং ব্যবহৃত ভেজা মোজা ও জুতা পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিন।

৪. জুতা পরিষ্কার রাখা : বাইরে থেকে ফেরার পর জুতা বা স্যান্ডেলের নিচে লেগে থাকা ময়লা ও জীবাণু পরিষ্কার করা জরুরি। সাবান পানি দিয়ে জুতা ধুয়ে ফেলুন, সম্ভব হলে জীবাণুনাশক স্প্রে করুন। এতে ঘরের ভেতর জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।

৫. শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ : জলাবদ্ধ পানির মাধ্যমে লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়া বা ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে। হাঁটার কয়েক দিনের মধ্যে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা বা চোখে লালভাব দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তার দেখান।

৬. বিশেষ সতর্কতা : বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু, ডায়াবেটিসের রোগী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে সামান্য ক্ষতও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই এই বিশেষ শ্রেণির মানুষের জলাবদ্ধ পানি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রয়োজনে জলরোধী বুট ব্যবহার করুন।

৭. ছোট অভ্যাস, বড় সুরক্ষা : বর্ষায় সুস্থ থাকতে জলাবদ্ধ পানি এড়িয়ে চলা, বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে হাত-পা ধোয়া এবং নিয়মিত পোশাক পরিবর্তনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রয়োজন হলে টিটেনাস টিকা হালনাগাদ আছে কি না যাচাই করে নিন।

মনে রাখবেন, বর্ষার এই মৌসুমে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক। সামান্য কিছু সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা আপনাকে ও আপনার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ব্যাধি থেকে দূরে রাখবে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত