
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য দেশের ১৯৪টি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ কোটি ৪৬ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দিয়েছে সরকার। তবে অনুদানপ্রাপ্তি ও বরাদ্দের অংক নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নিয়মিত নাট্যচর্চায় সক্রিয় থাকা অনেক স্বনামধন্য নাট্যদল ও সংগঠন অনুদান থেকে বাদ পড়ায় সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুদান তালিকায় নাম না থাকা নাট্যদল ও সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা বরাদ্দের এই প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করেছেন। থিয়েটার ফ্যাক্টরির প্রধান অলোক বসু প্রশ্ন তুলেছেন, যারা নিয়মিত ভালো কাজ করছে, তাদের কেন বঞ্চিত করা হলো? এটি কি সৃজনশীল নাট্যচর্চাকে নিরুৎসাহিত করার কোনো কৌশল, এমন সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রাঙ্গণেমোর থিয়েটারের সহপ্রতিষ্ঠাতা নূনা আফরোজ এবং বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরীও অনুদান পাওয়ার যোগ্যতা এবং বঞ্চনার কারণ নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, যারা সারা বছর কোনো কাজ করে না, এমন নামসর্বস্ব অনেক সংগঠন অনুদান পেয়েছে, অথচ সক্রিয় অনেক দল তালিকায় জায়গা পায়নি। নাট্যদল ‘অনুস্বর’-এর প্রধান মোহাম্মদ বারীর মতে, অনুদান দেওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির অভাব রয়েছে।
যারা অনুদান পেয়েছেন, তাদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক নাট্যদলের প্রধানের মতে, বর্তমান সময়ে একটি নাটক মঞ্চে আনতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়। সেক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের এই সামান্য অর্থ থিয়েটার চর্চার বিশাল আর্থিক সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত নগণ্য। পাঁচ দশকের পুরোনো নাট্যদল ‘আরণ্যক’ মাত্র ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান পাওয়ায় তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন প্রবীণ নাট্যনির্দেশক মামুনুর রশীদ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, অনুদান কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজিদ প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামাল বায়েজিদ। তিনি জানান, বরাদ্দের তালিকা শিল্পকলা একাডেমি থেকে অনুমোদিত হয়ে এসেছে এবং এতে তার ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা নেই। এছাড়া আরণ্যক নাট্যদলের নামমাত্র অনুদান পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, গত বছর তারা আবেদন না করায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের নতুন আবেদনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক মহলের দাবি, সরকারি এই অনুদান যেন স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়, যাতে প্রকৃত সৃজনশীল সংগঠনগুলো মূল্যায়িত হয়।