
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে মাঠের বাইরের এক সিদ্ধান্তে উত্তপ্ত ফুটবল বিশ্ব। ফ্রান্সের ম্যাচ পরিচালনার জন্য ফিফা যে পাঁচজন রেফারির নাম ঘোষণা করেছে, তারা প্রত্যেকেই আর্জেন্টিনার নাগরিক। বিশ্বকাপের ৯৬টি ম্যাচের ইতিহাসে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারি ফাকুন্দো তেলো এবং তার সহকারী জুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গ্যাব্রিয়েল চেদ ছাড়াও চতুর্থ ও পঞ্চম রেফারির দায়িত্বে থাকছেন দারিয়ো হেরেরা এবং ক্রিশ্চিয়ান নাভারো। তাদের সবাই আর্জেন্টিনার বাসিন্দা হওয়ায় ফ্রান্সের সমর্থক ও সংবাদমাধ্যম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বৈরিতার কারণে রেফারিরা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হতে পারেন।
ফরাসি সমর্থকদের এই অসন্তোষের মাত্রা এতটাই বেশি যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে কটাক্ষ করে বলছেন, ফিফা যেন সরাসরি লিওনেল মেসিকেই রেফারি হিসেবে মাঠে নামিয়ে দেয়। ফরাসি একটি সংবাদমাধ্যম ফিফার সমালোচনা করে লিখেছে, ‘ফিফার কোনো লজ্জা নেই।’
রেফারি ফাকুন্দো তেলো দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম পরিচিত রেফারি হলেও মাঠের সিদ্ধান্তে তিনি বরাবরই কঠোর। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচে তিনি লাল কার্ড দেখিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন। আবার আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে একটি ম্যাচে ১০টি লাল কার্ড দেখিয়েও তিনি শিরোনামে এসেছিলেন। যদিও এর আগে ফ্রান্সের কোনো ম্যাচে তিনি দায়িত্ব পালন করেননি।
ঘটনাচক্রে, এর আগে আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফ্রান্সের নাগরিক ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ার দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তখন তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল বিভিন্ন মহল। তবে এবারের ঘটনায় পাঁচ রেফারিই এক দেশের হওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের এই রেফারিরা কতটা নিরপেক্ষ থেকে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন।