
টানা চার দশকের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম। পাহাড়ধসের প্রবল ঝুঁকির মুখে থাকা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার রাতে চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা দুস্থদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রাণ আগে, ঘর পরে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আবার তৈরি করা যাবে, কিন্তু একটি প্রাণ চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।’
বুধবার রাত আটটার দিকে জেলা প্রশাসক কর্মকর্তাদের নিয়ে লালখান বাজার এলাকার পোড়া কলোনির ওয়াইডব্লিউসিএ কমিউনিটি স্কুল আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছান। সেখানে আশ্রয় নেওয়া ১৬০ জনের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করেন তিনি। এ সময় তিনি নারী, শিশু ও প্রবীণদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে ৩৩ হাজার ৬৭৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড়ধসে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু ও পাঁচজন আহতের ঘটনা ঘটেছে। এই ক্ষয়ক্ষতি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে জেলার ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ১ হাজার ২২২ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের উদ্বেগ দূর করতে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জীবন বাঁচানোই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। নিরাপত্তার স্বার্থে আশ্রয়কেন্দ্রে কিছুটা কষ্ট হলেও তা মেনে নিতে হবে। কেউ যেন রাতের আঁধারে ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ি ঘরে ফিরে না যান।’ প্রয়োজনে পুরুষ সদস্যদের দিনের বেলা বাড়ির অবস্থা দেখে আসার জন্য ছাতার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
দুযোর্গ মোকাবিলায় প্রশাসনের তৎপরতা সম্পর্কে জানানো হয়, চট্টগ্রাম শহরের ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়কে পাঁচটি জোনে ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টিম ও প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। এছাড়া জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য ২০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা মজুত রাখা হয়েছে।
দুর্যোগের এই সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকরা প্রতিকূল পরিবেশে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মানবিক বাংলাদেশ গড়াই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।