
দেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সকালে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল সংক্রান্ত হাইকোর্টের আগের রায়টিই বহাল রইল।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর মধ্যে অবৈধ ক্ষমতা দখলের শাস্তি এবং জাতির পিতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বীকৃতির পাশাপাশি জাতীয় চার মূলনীতি সংবিধানে পুনর্বহাল করা হয়েছিল।
তবে ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করা হয়। সেই রিটের প্রেক্ষিতে গত ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ নম্বর ধারা (তত্ত্বাবধায়ক ও গণভোট সংক্রান্ত) বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদকেও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে বাতিল করা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পৃথক তিনটি আপিল করেছিলেন। এসব আপিলের ওপর গত সোমবার থেকে শুনানি শুরু হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যা মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এখন আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনরায় বহালের আইনি পথ সুগম হলো।