
ভালোবাসার টানে বাড়ি ছেড়েছে পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই শিশু। বিয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর পাংশায় পৌঁছালে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তারা। এই অদ্ভুত অভিযানে তাদের সঙ্গী ছিল প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরও এক বন্ধু।
জানা যায়, ঢাকার মিরপুরের একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহুল স্থানীয় একটি হোটেলে খণ্ডকালীন কাজ করত। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাহির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে শিশুতোষ প্রেমের সম্পর্ক। পরিবার তাদের এই সম্পর্কের বিষয়ে আপত্তি জানালে তারা বাড়ি ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে তারা প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া বন্ধু রোজানকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকার মিরপুর থেকে রওনা দেয়। মঙ্গলবার ভোরে পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত পুলিশের সন্দেহ হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শিশুরা পুলিশকে জানায়, তারা একে অপরকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়, তাই বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। তবে তাদের সঙ্গী রোজান জানায়, যাত্রাপথে সে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারে।
ঘটনার পর শিশুদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। পরে অভিভাবকরা থানায় এসে সন্তানদের শনাক্ত করেন।
পাংশা মডেল থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই তাদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে শিশুদের এমন সিদ্ধান্ত সমাজের জন্য উদ্বেগের। শিশুদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।