দেশ, সর্বশেষ

দেশ, সর্বশেষ

হবিগঞ্জে নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি অবনতি

টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি চরম অবনতি হয়েছে। খোয়াই ও কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও হাওর এলাকার হাজারো পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। চোখের সামনে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় খোয়াই নদীর পানি সীমান্তবর্তী বাল্লা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া শহর সংলগ্ন মাছুলিয়া পয়েন্টে নদীটির পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একই সঙ্গে আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ থেকে ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ক্রমাগত বাড়ছে।

হাওর অঞ্চলের প্রধান ফসল বোরো ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে এই আকস্মিক বন্যা কৃষকদের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বানিয়াচং ও চুনারুঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলার অসংখ্য পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শত শত হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক বলেন, ‘পানির স্রোতে চোখের সামনে সব ভেসে যাচ্ছে। ধান কাটার মতো পরিস্থিতি নেই। পরিবার নিয়ে এখন অনাহারে দিন কাটানোর উপক্রম হয়েছে।’

হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, খোয়াই নদীতে পানির তীব্র চাপ রয়েছে এবং উজানের ঢল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শহর রক্ষা বাঁধসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে নদীর নাব্য সংকট, বাঁধের দুর্বল কাঠামো এবং নদী দখলের ফলে প্রতি বছরই বন্যা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ রূপ দেখা দেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষজ্ঞরাও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঢল ও বৃষ্টির মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা কেবল ত্রাণ নয়, বরং দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং অনেক গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি চলছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত