
ফুটবল মাঠে আর্লিং হালান্ডের অবিশ্বাস্য গতি আর গোল করার নিখুঁত দক্ষতায় মুগ্ধ বিশ্ব। ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার কীভাবে নিজেকে এতটা ফিট রাখেন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব ভিডিও ‘ডে ইন দ্য লাইফ অফ এ প্রো ফুটবলার’-এ হালান্ড নিজেই তার প্রতিদিনের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসের রহস্য উন্মোচন করেছেন।
হালান্ড জানান, তার অবিশ্বাস্য ফিটনেসের পেছনে কোনো ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট বা কৃত্রিম খাবারের অবদান নেই। বরং তিনি ভরসা রাখেন প্রাকৃতিক ও খাঁটি খাবারের ওপর। তার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে ফার্মের তাজা ডিম, টক দই দিয়ে তৈরি রুটি, কাঁচা দুধ, খাঁটি মধু এবং চর্বিযুক্ত গরুর মাংস।
তার এই ডায়েট চার্ট দেখে মার্কিন স্বাস্থ্যবিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সার পল সালাদিনো যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি দিয়েছেন কিছু পরামর্শও। ঐতিহ্যবাহী খাবার বেছে নেওয়ার কারণে সালাদিনো মজা করে হালান্ডকে ‘ভাইকিং’ বলে অভিহিত করেছেন। সালাদিনোর মতে, হালান্ডের সকালের কাঁচা দুধ ও ম্যাপল সিরাপ মেশানো কফি পেট, হাড় ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া টক দইয়ের রুটি সহজে হজমযোগ্য এবং ডিম অত্যন্ত পুষ্টিকর।
তবে রান্নার পাত্র নিয়ে সালাদিনোর আপত্তি আছে। হালান্ড রান্নার জন্য নন-স্টিক প্যান ব্যবহার করেন, যাকে সালাদিনো ‘আবর্জনা প্যান’ হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, নন-স্টিক প্যানে থাকা পিএফএএস রাসায়নিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পরিবর্তে তিনি হালান্ডকে স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রনের প্যান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
মাংসের প্রতি হালান্ডের বিশেষ ঝোঁক রয়েছে। তিনি স্থানীয় খামার থেকে রিবআই বা টমাহকের মতো চর্বিযুক্ত মাংস সংগ্রহ করেন এবং তা কেবল লবণ ও মরিচ দিয়ে গ্রিল করে খান। সালাদিনো মনে করেন, ঘাস খাওয়া গরুর মাংস থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন এ, ই এবং কে-২ হালান্ডের দীর্ঘকায় শারীরিক গঠনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলা-র তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন মাঠের কঠিন পরিশ্রমের চাহিদা মেটাতে হালান্ড প্রায় ছয় হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। এর মধ্যে নিয়মিত গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজাও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা তিনি শরীর গঠনের জন্য অপরিহার্য মনে করেন।
শুধু খাবারেই সীমাবদ্ধ থাকেন না হালান্ড। শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি স্ট্রেচিং, ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ, রেড-লাইট থেরাপি, আইস বাথ এবং নিয়মিত সাউনা সেশনে অংশ নেন। সব মিলিয়ে কঠোর পরিশ্রম ও প্রাকৃতিক খাবারের সমন্বয়েই তিনি আজ নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।