
ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামতি করেছেন হাফেজ রোকনউদ্দিন। কিন্তু তার হৃদয়ের গভীরে ছিল সবুজের প্রতি ভালোবাসা। সেই শখই একসময় তাকে নিয়ে এল কৃষি উদ্যোক্তার সফলতার পথে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামে এখন লটকন চাষে সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি।
শুরুর দিকে শখের বশে গাছ লাগানো রোকনউদ্দিন ২০১৮ সালে মুক্তাগাছা থেকে ৩০টি চারা এনে লটকন বাগান শুরু করেন। তবে বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ পথ। শুরুতে পুরুষ গাছের আধিক্য থাকায় ফলন নিয়ে বিপাকে পড়লেও দমে যাননি তিনি। নিজে কৌশল শিখে কলম তৈরির মাধ্যমে তৈরি করেছেন উন্নত জাতের বাগান।
তার এই পরিশ্রম ও গবেষণার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো বিশেষ এক জাতের লটকন। কৃষিবিষয়ক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর উপস্থাপক শাইখ সিরাজ যখন ২০২৬ সালে তার বাগান পরিদর্শনে যান, তখন ফলের চমৎকার স্বাদ ও আকার দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি এই জাতের নাম রাখেন ‘নয়নপুরী লটকন’। গ্রামের নামানুসারেই এই নামকরণ করা হয়, যা আজ স্থানীয়ভাবে বেশ সমাদৃত।
রোকনউদ্দিনের প্রায় চার বিঘা জমির দুটি বাগানে এখন ফলের ভারে নুয়ে পড়ছে লটকনগাছ। তিনি জানান, মানসম্মত চারার নিশ্চয়তা দিতে তিনি কেবল ভালো ফলনশীল গাছ থেকেই কলম তৈরি করেন। তার বাগানের এক বছরের কলম ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মণ লটকন সাড়ে তিন হাজার টাকা দরে পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। মৌসুমের শুরুতেই তিনি ৭০-৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন বলে জানান।
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান রোকনউদ্দিনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তার উৎপাদিত উন্নত জাতের চারা ও বাগান ভবিষ্যতে ভালুকার লটকনকে স্থানীয় চাহিদার গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
রোকনউদ্দিনের এই সাফল্য শুধু তার নিজের জীবন বদলায়নি, বরং স্থানীয় অনেক কৃষককে পতিত জমিতে বাগান গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে। মসজিদের মিম্বর থেকে কৃষকের মাঠ— হাফেজ রোকনউদ্দিনের এই যাত্রা প্রমাণ করে, অদম্য ইচ্ছা ও গবেষণার সংমিশ্রণে যেকোনো ক্ষেত্রেই সফলতা অর্জন সম্ভব।