বিদেশ, সর্বশেষ

বিদেশ, সর্বশেষ

রাশিয়ার হুমকি বাস্তব, ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভিয়ের বেটেল। বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে আনাদোলু সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে চরম অনিশ্চিত বলে অভিহিত করেন।

জাভিয়ের বেটেল বলেন, রাশিয়ার হুমকি এখন আর তাত্ত্বিক নয়, বরং এটি একটি বাস্তব ঝুঁকি। তার মতে, শান্তি বজায় রাখার প্রধান শর্ত হলো একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কথা কল্পনাও করতে পারতেন না। কিন্তু বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে জনগণকে এটি বোঝানো প্রয়োজন যে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

লুক্সেমবার্গের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, গত দশ বছরে তার দেশ প্রতিরক্ষা খাতে ৩৫০ শতাংশেরও বেশি ব্যয় বৃদ্ধি করেছে। শুধু বাজেট বাড়ানোই যথেষ্ট নয়, ইউরোপকে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকেও আরো শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তুলতে হবে বলে তিনি অভিমত দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নেতৃত্ব ও তাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বেটেল বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেডি ভ্যান্সের কথা থেকে ইউরোপের জন্য একটি ‘জাগরণের বার্তা’ পাওয়া গেছে। এর ফলে ইউরোপ এখন নিজেদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক অর্থাৎ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা বজায় রাখা উভয় পক্ষের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে বেটেল বলেন, ইউক্রেন এই যুদ্ধ শুরু করেনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন, অতীতে কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে লুক্সেমবার্গের পাশে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক সেভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। আজ ইউক্রেন আক্রান্ত হয়েছে, আগামীকাল অন্য কেউ হতে পারে—এই আশঙ্কাই তিনি প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুদ্ধের পর দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি পুনর্গঠন করা খুব কঠিন হবে। বর্তমান সংকট নিরসনে তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ন্যাটো সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে তুরস্কের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন লুক্সেমবার্গের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আঙ্কারার সাধারণ মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে তিনি জানান, তুর্কি মিষ্টান্ন তার ভীষণ প্রিয়।

 

বিষয়:
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত