অর্থ ও বাণিজ্য, দেশ, সর্বশেষ

অর্থ ও বাণিজ্য, দেশ, সর্বশেষ

নেত্রকোনায় লেবু চাষে সফল আলী আমজাদ, দিনমজুর থেকে লাখপতি

একসময় দিনমজুরি ও ফেরি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারায়ণডহর গ্রামের আলী আমজাদ। অভাবের তাড়নায় জীবনসংগ্রামে লিপ্ত সেই আলী আমজাদ আজ সফল উদ্যোক্তা। লেবু চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়ে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যই বদলাননি, এলাকার অনেক কৃষকের জন্য হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় আদর্শ।

২০১১ সালে মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে গ্রামে গ্রামে সবজি ফেরি করার ব্যবসা শুরু করেন আলী আমজাদ। সেই ব্যবসার লাভের টাকা থেকেই মাত্র ৪ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে দেশীয় জাতের বারোমাসি এলাচি লেবুর চাষ শুরু করেন তিনি। প্রথম বছরেই আসে সাফল্য; আয় হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে ২০ শতাংশ জমিজুড়ে গড়ে তোলেন ২৫০টি লেবুগাছের বাগান।

বর্তমানে আলী আমজাদের বাগানে প্রতিটি গাছে ২৫০ থেকে ৩০০টি পর্যন্ত লেবু ধরছে। সব মিলিয়ে মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৬২ হাজার লেবু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তিনি এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন এবং আরও দেড় লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন। লেবু চাষ থেকে অর্জিত আয় দিয়ে তিনি ৮ কাঠা জমি কিনেছেন এবং তিনটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন।

আলী আমজাদের এই সাফল্য দেখে নারায়ণডহর, শালদিঘা ও লাঙ্গলজোড়াসহ আশপাশের পাঁচটি গ্রামের কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষে ঝুঁকছেন। স্থানীয় কৃষক নেকবর আলী জানান, আমজাদের বাগানের পদ্ধতি অনুসরণ করে অনেক কৃষক এখন আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন। স্থানীয় ক্রেতারাও বিষমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় তার বাগানের লেবু কিনতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম জানান, ফসল বহুমুখীকরণের মাধ্যমে চাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। আলী আমজাদ তার পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও দেশের কৃষিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। স্থানীয় চাষিদের প্রত্যাশা, এই সাফল্য ধরে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকে আরও কৃষকবান্ধব বাজারব্যবস্থা ও সহায়তা প্রয়োজন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত